আটলান্টিক জোট ভাঙছে না, তবে দ্রুত বদলাচ্ছে
১ এপ্রিল, ২০২৬

অনেকেই এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যেন এটি স্রেফ অভ্যাসবশত চলছে। পুরোনো ধারণাটি বেশ সহজ—আটলান্টিক জোটে হয়তো মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু শেষমেশ সবকিছু আগের মতোই ঠিক হয়ে যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। তাদের এই অংশীদারিত্ব ভেঙে পড়ছে না। বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন হিসেবেই টিকে আছে এটি। কিন্তু যুদ্ধ, নির্বাচন, বাণিজ্য বিরোধ এবং সামরিক চাপের কারণে এটি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে ইউরোপের মনে এই ভয়ও বাড়ছে যে, আমেরিকার সমর্থনকে আর চিরস্থায়ী ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কেবল কূটনীতির হিসাব মেলালে চলবে না, এই সম্পর্ক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল এবং মার্কিন সরকারের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আর মার্কেট এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে এই দুই অঞ্চল থেকে। ইইউ-তে থাকা আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স বারবার এই অর্থনীতিকে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক সম্পর্ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দুই পাড়ের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এর ওপর নির্ভরশীল। এটি কেবল একটি নামমাত্র জোট নয়। এটি বিশ্বের অনেক দেশের পণ্যের দাম, কলকারখানা, প্রযুক্তির নিয়মকানুন, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাজার এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করে।
তবে এই সম্পর্কের রাজনৈতিক আবহ এখন বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোদস্তুর আগ্রাসন ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে সাময়িকভাবে কাছাকাছি এনেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে ইউরোপও তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে দেয়। তারা রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং বড় পরিসরে যৌথভাবে অস্ত্র কেনার পথ খুলে দেয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও ন্যাটোকে বেশ দুর্বল মনে হচ্ছিল। কিন্তু এই যুদ্ধের কারণে তারা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ২০২৩ সালে ফিনল্যান্ড এবং ২০২৪ সালে সুইডেন এই জোটে যোগ দেয়। এটি উত্তর ইউরোপের নিরাপত্তা মানচিত্রে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
কিন্তু যে যুদ্ধ জোটটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল, সেটিই আবার এর দুর্বল জায়গাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ইউরোপ এখনও আমেরিকান সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। 'ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ' এবং ন্যাটোর তথ্যে দেখা গেছে, জোটের সবচেয়ে উন্নত সক্ষমতাগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রই সরবরাহ করে। এর মধ্যে এয়ারলিফট, মিসাইল ডিফেন্স থেকে শুরু করে গোয়েন্দা তথ্য এবং রসদ সরবরাহের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজেট হয়তো বেড়েছে। কিন্তু তাদের অনেক দেশের সেনাবাহিনীতেই এখনও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ, শিল্প সক্ষমতা এবং আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—ইউরোপ রাশিয়ার চেয়ে ধনী হতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদকে দ্রুত সামরিক প্রস্তুতিতে রূপান্তর করতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই ঘাটতি রাজনৈতিকভাবে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কারণ, পরের নির্বাচনে আমেরিকায় কী ধরনের সরকার আসবে তা নিয়ে ইউরোপ আর নিশ্চিত হতে পারছে না। এই ভয়ের শুরু অবশ্য ২০২৪ সালে হয়নি। ট্রাম্পের আমলেই এটি বাড়তে শুরু করে। তখন ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ইউরোপীয় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক বসানো হয়েছিল। তখন বার্লিন, প্যারিস এবং ব্রাসেলসের নেতারা 'স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি' বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। এই কথাটি একসময় বেশ অবাস্তব শোনাত। কিন্তু এখন এটি বেশ বাস্তবসম্মত। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এখন এটিকে একটি মৌলিক অর্থে ব্যবহার করেন। তাদের মতে, ইউরোপকে নিজেদের রক্ষা করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে বাঁচাতে হবে এবং ওয়াশিংটন যখন অন্য দিকে মনোযোগ দেবে বা অনাগ্রহ দেখাবে, তখন নিজেদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাণিজ্য হয়ে উঠেছে বিরোধের আরেকটি বড় কারণ। অনেকেই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে টানাপোড়েন মূলত প্রতিরক্ষা নিয়ে। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কয়েক বছরের প্রকাশ্য বিরোধের পর বাইডেন প্রশাসন হয়তো একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু নীতিগত বিরোধ কখনোই পুরোপুরি দূর হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট'-এর অধীনে ক্লিন টেকনোলজি এবং দেশীয় উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি অনেক ইউরোপীয় সরকারকে চিন্তায় ফেলেছিল। তারা আশঙ্কা করেছিল যে, এর ফলে ইউরোপ থেকে বিনিয়োগ আমেরিকার বাজারে চলে যেতে পারে। ইউরোপীয় নেতারা অভিযোগ করেন, এই আইনে স্থানীয় উৎপাদনকে এমনভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা মিত্র দেশগুলোর কোম্পানিগুলোর ক্ষতি করতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ কিছুটা মেটানো হলেও, এটি একটি বড় শিক্ষা দিয়ে গেছে। তা হলো, মিত্র সরকারগুলোও এখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থে শিল্প নীতি ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তি এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়েছে। ইউরোপ ডিজিটাল রেগুলেশন, অ্যান্টিট্রাস্ট ব্যবস্থা এবং গোপনীয়তার নিয়মনীতি নিয়ে বেশ এগিয়ে গেছে, যা অনেক সময় বড় বড় আমেরিকান কোম্পানির ওপর প্রভাব ফেলে। ইইউ-এর 'ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট' এবং 'ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট' প্রমাণ করে যে, ইউরোপ মনে করে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ দরকার। ওয়াশিংটনও এই উদ্বেগের কিছু অংশের সঙ্গে একমত, কিন্তু তারা ইউরোপের পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে সবসময় একমত হয় না। একই সময়ে, চীনের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র উন্নত চিপস এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রযুক্তির রপ্তানিতে কঠোরতা আরোপ করেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলোও মানে যে চীন একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে তারা ওয়াশিংটনের মতো এতটা কঠোর অবস্থান নিতে সবসময় রাজি থাকে না। ইউরোপের কাছে চীন একই সঙ্গে একটি বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। এই দ্বৈত বাস্তবতার কারণে আটলান্টিকের দুই পাড়ের আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি খাতেও ঐক্য আর ক্ষোভের একই রকম গল্প দেখা যায়। রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের জন্য এলএনজি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। এর ফলে যুদ্ধের পরের শীতকালগুলোতে ইউরোপ বড় ধরনের সংকট এড়াতে পেরেছিল। কিন্তু ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো দাম বেশি হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। তাদের মনে হয়েছিল, ইউরোপের এই জরুরি পরিস্থিতি থেকে আমেরিকা ফায়দা লুটছে। এই ক্ষোভ হয়তো কখনো কখনো অতিরঞ্জিত ছিল, তবে এটি জোটের একটি পুরোনো সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। সমস্যাটি হলো, দুই পক্ষের স্বার্থ এক হলেও, এর মূল্য সমানভাবে ভাগ হয় না।
এর ফলাফল বিশ্বজুড়েই প্রভাব ফেলে। আটলান্টিকের দুই পাড়ের মধ্যে যদি বিশ্বাস কমে যায়, তবে এর প্রভাব শুধু ব্রাসেলস বা ওয়াশিংটনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউক্রেন আরও বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। ন্যাটোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল মনে হবে। পশ্চিমা জোটের একতা পরীক্ষা করার জন্য চীন আরও বেশি সুযোগ পাবে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার দেশগুলোও বিভক্ত পশ্চিমা নীতির মুখোমুখি হবে। এর ফলে বাণিজ্য, নিষেধাজ্ঞা, সাহায্য এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো অস্পষ্ট হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই চাপের মুখে পড়বে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ তখন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ অন্তত মূল বিষয়গুলোতে একমত থাকে, ছোটখাটো বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও।
সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তনের প্রভাব টের পাবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক শীতল হওয়ার মানে হতে পারে আরও বেশি শুল্ক আরোপ, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি এবং সাপ্লাই চেইনে বিশৃঙ্খলা। এছাড়া মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং শিল্প খাতের চাকরির বিষয়ে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিতে পারে। ইউরোস্ট্যাট এবং ইউএস ব্যুরো অফ ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের তথ্যে দীর্ঘকাল ধরেই আটলান্টিকের দুই পাড়ে পারস্পরিক বিনিয়োগের গভীরতা ফুটে উঠেছে। নীতি নির্ধারকরা যখন ভর্তুকি, ডিজিটাল নিয়ম বা সরকারি কেনাকাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান, তখন গাড়ি কারখানা, চিপ প্ল্যান্ট, বন্দর এবং লজিস্টিক হাবের কর্মীদেরই সবার আগে তার মাশুল গুনতে হয়।
দূরত্ব তৈরি হওয়ার আগেই মানিয়ে নেওয়ার সময় এখনও আছে। ইউরোপকে কেবল প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরং প্রতিরক্ষা উৎপাদনও বাড়াতে হবে। এর মানে হলো, আরও বেশি গোলাবারুদ উৎপাদন করা, দ্রুত কেনাকাটা সম্পন্ন করা এবং জাতীয় শিল্পের মাঝে একই কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউরোপের এই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্ট হিসেবে দেখা। প্রতি নির্বাচনের সময় এটিকে আনুগত্যের পরীক্ষা হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। দুই পক্ষেরই একটি পরিষ্কার অর্থনৈতিক চুক্তিতে আসা প্রয়োজন। বাণিজ্য বিরোধগুলো বড় কোনো সংঘাতের রূপ নেওয়ার আগেই মিটিয়ে ফেলা উচিত। ক্লিন টেকনোলজি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় যৌথ নীতি গ্রহণ করলে তা জোটের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর হবে। কেবল মূল্যবোধ নিয়ে বারবার বক্তৃতা দেওয়াটা তেমন কোনো কাজে আসবে না।
এর চেয়েও বড় পরামর্শ হলো রাজনৈতিক সততা বজায় রাখা। আমেরিকান নেতাদের এই ভান করা বন্ধ করতে হবে যে, ইউরোপ কোনো ধরনের পরিণতি ছাড়াই চিরকাল তাদের ওপর কৌশলগতভাবে নির্ভরশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতাদেরও এমনভাবে কথা বলা বন্ধ করতে হবে যেন স্বায়ত্তশাসনের অর্থ হলো সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। আসল কাজ আলাদা হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটি হলো পরিপক্বতা। ইউরোপ আরও শক্তিশালী হলে আটলান্টিক জোট দুর্বল হবে না। তবে শর্ত হলো, তাদের গণতান্ত্রিক স্বার্থ এবং বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের বিষয়ে এক হয়ে থাকতে হবে।
পুরোনো ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক বা আটলান্টিক-পারের সম্পর্কটি গড়ে উঠেছিল এক ভিন্ন শতাব্দীতে, ভিন্ন সব হুমকির মুখে এবং ক্ষমতার একেবারে ভিন্ন এক ভারসাম্যের ওপর। এর গুরুত্ব এখনও অনেক। হয়তো অনেক ভোটারের ধারণার চেয়েও বেশি। কিন্তু এটি আর কেবল পুরোনো স্মৃতির ওপর ভর করে চলতে পারবে না। এই জোট তখনই টিকে থাকবে, যখন দুই পক্ষই মেনে নেবে যে, নির্ভরযোগ্যতাকে এখন নতুন করে তৈরি করতে হবে, অর্থায়ন করতে হবে এবং প্রকাশ্যে এর পক্ষে দাঁড়াতে হবে। স্বয়ংক্রিয় ঐক্যের পুরোনো মিথ বা কল্পকাহিনির চেয়ে এটি একটি অনেক কঠিন সত্য। তবে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় কেবল এটিই সবচেয়ে বেশি মানানসই।