ইরান ও আমেরিকার পরবর্তী যুদ্ধ হয়তো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে শুরু হবে না। কারণ এর বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে চলছে। সাইবার হামলা, প্রক্সি গোষ্ঠীর আক্রমণ এবং জাহাজ দখলের মতো ঘটনাগুলো এমন এক সংঘাত তৈরি করেছে, যা নেতারা এখনও স্বীকার করতে চাইছেন না।
Conflict & War
সাহেলের জঙ্গি সহিংসতা এখন আর শুধু নিরাপত্তার সংকট নয়, এটি এক বিশাল যুদ্ধ-অর্থনীতি। এখানে জিহাদি হামলা, সামরিক ক্যু ও চোরাচালান একে অপরকে জিইয়ে রাখে। আর সরকারগুলো কেবল শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের ভান করে চলেছে।
লোহিত সাগরে হামলার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক। ইয়েমেনের হুথিদের কম খরচের একটি অভিযান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ থেকে বড় বড় জাহাজ কোম্পানিগুলোকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা আসলে কতটা ভঙ্গুর।
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের দেশত্যাগ কোনো সাধারণ সহিংসতার ঘটনা ছিল না। নির্দিষ্টভাবে হত্যা, হুমকি এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অভাবে হাজার হাজার মানুষ উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এটি ছিল সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতির এক নির্মম উদাহরণ।
অনেকেই ভাবেন যুদ্ধবিরতি মানেই যুদ্ধের শেষ। কিন্তু ইউক্রেন থেকে কম্বোডিয়া পর্যন্ত বহু দেশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বছরের পর বছর ধরে কৃষক, শিশু এবং ত্রাণকর্মীদের হত্যা করছে। এর ফলে শান্তি এক নীরব জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়।
অনেকে ক্রুসেডকে বহু পুরোনো ইতিহাস বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে ক্রুসেডের ভাষা ও প্রতীক ব্যবহার করে চরমপন্থীরা আজও প্রচার চালাচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত যুদ্ধের ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলতেই আমাদের বিশাল সেনাবাহিনী আর আধুনিক অস্ত্রের কথা মনে পড়ে। কিন্তু মিডওয়ে যুদ্ধ প্রমাণ করেছিল অন্য কথা। সঠিক তথ্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং মাত্র কয়েক মিনিটের হিসাব কীভাবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, এটি তারই সেরা উদাহরণ।
অনেকেই ভাবেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হবে শহরে মিসাইল হামলার মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতের সূচনা হতে পারে হরমুজ প্রণালির সরু জলপথে। সেখানে একটি ছোট সংঘর্ষও বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার, জাহাজ চলাচল ও লাখ লাখ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সশস্ত্র সংঘাতে যৌন সহিংসতার শিকার হিসেবে সাধারণত নারী ও শিশুদের কথাই ভাবা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রচারণার ফলে এই নির্মম সত্যটি স্বীকৃতিও পেয়েছে। কিন্তু এই একপেশে ধারণার কারণে একটি ভয়াবহ দিক আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়: আধুনিক যুদ্ধে পুরুষদের ওপর যৌন সহিংসতা একটি পরিকল্পিত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা প্রায়শই আলোচনায় আসে না।
বেশিরভাগ মানুষ মনে করে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব কেবলই একটি গণিতের বিষয়। সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করানো হয় যে, যে দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট সবচেয়ে বড়, যার সবচেয়ে ভারী ট্যাঙ্ক এবং সবচেয়ে উন্নত স্টেলথ ফাইটার আছে, তারাই যুদ্ধের ময়দানে জিতবে। আমরা
যুদ্ধের কথা ভাবলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের ওপর দিয়ে ট্যাঙ্কের সারি আর আকাশের বুকে যুদ্ধবিমানের গর্জন। আমরা সৈন্য আর ভৌত ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখতে পাই, যা অস্ত্র আর কৌশলের এক প্রতিযোগিতা। কিন্তু আধুনিক সংঘাতে একটি নতুন, কম দৃশ্যমান যুদ্ধক্ষেত্র খুলে গেছে, যা
ঘাতক রোবটের ছবি বলতেই আমাদের কল্পবিজ্ঞানের কথা মনে আসে—ধাতব, মানুষের মতো দেখতে এক সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধের আসল বিপ্লব ঘটছে অনেক নীরবে। এর আসল রূপ হলিউডের সাইবর্গের মতো নয়, বরং ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় থাকা বুদ্ধিমান সফটওয়্যার।
যুদ্ধের কথা ভাবলে আমাদের চোখে প্রায়শই ভেসে ওঠে জাতীয় উর্দি পরা সৈন্যদের ছবি, যারা দেশের পতাকার জন্য লড়ে এবং প্রাণ দেয়। রাষ্ট্রীয় সংঘাতের শত শত বছরের ইতিহাসে গেঁথে থাকা এই ছবিটি এখন দ্রুত পুরনো হয়ে যাচ্ছে। ছায়া থেকে সম্মুখ সমরে উঠে এসেছে এক নতুন ধরনের যোদ্ধা: বেসরকারি
যখন বিশ্ববাসী আধুনিক সশস্ত্র সংঘাতের কথা ভাবেন, তখন সাধারণত অত্যাধুনিক ড্রোন, নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া সাঁজোয়া গাড়ির বহরের ছবিই ভেসে ওঠে। আমাদের এমনভাবে ভাবতে শেখানো হয়েছে যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা
আমরা প্রায়ই মনে করি যে সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতি যুদ্ধের প্রকৃতিকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে এবং বিশৃঙ্খল যুদ্ধক্ষেত্রকে একেবারে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ছকে পরিণত করেছে। জনমনে প্রচলিত ধারণা হলো, লেজার-গাইডেড অস্ত্র, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা...
সাধারণ মানুষ যখন যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কথা ভাবে, তখন তাদের মনে তাৎক্ষণিকভাবে ভেসে ওঠে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রাণহানির মর্মান্তিক হিসাব। এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা যে সংঘাতের অবসান