বয়স যাচাইয়ের নতুন আইনের কারণে ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহারকারীদের আইডি, ফেস স্ক্যান এবং ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই নতুন প্রযুক্তির কারণে এলজিবিটিকিউ ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হতে পারে এবং তারা নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
Technology
ক্লাউড কম্পিউটিং কম খরচ আর অনেক সুবিধার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু অনেক কোম্পানির জন্য ফল হয়েছে উল্টো। তাদের এখন গুনতে হচ্ছে মোটা বিল এবং কয়েকটি বড় টেক কোম্পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে।
অনেকে ভাবেন ভালো নেটওয়ার্ক মানে সমস্যা কম। কিন্তু ক্লাউড সিস্টেম ও মোবাইল ডেটার ওপর আমরা এতটাই নির্ভরশীল যে সামান্য ইন্টারনেট বিভ্রাটেই এখন সব থেমে যেতে পারে। কাজ, পেমেন্ট, যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি তথ্য পর্যন্ত সবকিছু এতে ব্যাহত হয়।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের হুমকির কারণে বড় মার্কিন টেক কোম্পানিগুলোর একটি গোপন দুর্বলতা সামনে এসেছে। আসল বিপদ শুধু সাইবার হামলা নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক চাপ নীরবে ক্লাউড সিস্টেম, অ্যাপস এবং নেটওয়ার্ককে প্রভাবিত করতে পারে। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের পরিকল্পিত হামলা সামলাতে বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো কতটা প্রস্তুত?
এআই-এর পরবর্তী বড় চমক হয়তো বিশাল কোনো ডেটা সেন্টার নয়। খুব কম বিদ্যুতে চলা নতুন একধরনের চিপ অত্যাধুনিক কম্পিউটিংকে নিয়ে আসছে আমাদের ফোন, হিয়ারিং এইড বা সেন্সরের মতো ছোট যন্ত্রগুলোতে। এর ফলে এআই-এর খরচ কমবে, ডেটার গোপনীয়তা বাড়বে এবং প্রযুক্তিটি আরও বেশি মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছাবে।
সাধারণত মানুষ মনে করে আধুনিক ডেটিং অ্যাপের অ্যালগরিদমগুলো অনেক উন্নত এবং মানুষের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। কিন্তু এই অ্যাপগুলোর আড়ালে থাকা প্রযুক্তি আসলে বেশ গতানুগতিক। কয়েক দশক ধরে, ম্যাচিং অ্যালগরিদম এবং ডেটাবেস শুধু দুজনের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির জন্য বানানো হয়েছিল।
বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, বেডরুমের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো পুরোপুরি ব্যক্তিগতই থাকে। যখন কেউ নিজের জন্য এমন কোনো প্রযুক্তিপণ্য কেনেন, তখন এটাই স্বাভাবিক ধারণা যে এর কাজ শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
অনেকেই ভাবেন যে আধুনিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেকোনো নিষিদ্ধ ছবি ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে পৌঁছানোর আগেই আটকে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI মুহূর্তের মধ্যে কপিরাইট লঙ্ঘন ধরে ফেলতে পারে বা ঘৃণামূলক বক্তব্য টাইপ করার সময়েই শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বিশেষ ধরনের ডিজিটাল হয়রানি সব প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে আসছিল। সেটি হলো বিনা অনুমতিতে পাঠানো আপত্তিকর ছবি। অবশেষে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করে এই ধরনের ছবি শনাক্ত ও ব্লক করার জন্য নতুন সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সুরক্ষার ধারণাই বদলে দিচ্ছে।
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ইন্টারনেট একটি নিরপেক্ষ জায়গা। আমরা ভাবি, অনলাইনে যা দেখি তা জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। আর যা হারিয়ে যায়, তা হয়তো মানুষ পছন্দ করেনি। কিন্তু আমাদের ডিজিটাল জীবনের পর্দার আড়ালে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলো নীরবে বড় বড় সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আধুনিক জীবনের এটা একটা খুব পরিচিত ও হতাশাজনক অভিজ্ঞতা। আপনি একটি নতুন স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ কিনলেন, এবং কয়েক মাস ধরে সেটি অবিশ্বাস্যরকম দ্রুত মনে হলো। অ্যাপগুলো সাথে সাথে খুলছে, ওয়েবসাইটগুলো পলকে লোড হচ্ছে এবং পুরো অভিজ্ঞতাটিই মসৃণ। কিন্তু তারপর, ধীরে ধীরে এবং প্রায় অলক্ষ্যে, একটি ধীরগতি দেখা দিতে শুরু করে।
গত এক দশকে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির চিরচেনা স্বস্তিতে এক গভীর ও অদৃশ্য পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই এই ধারণা নিয়ে থাকেন যে, কোনো ডিজিটাল স্টোরফ্রন্টে ‘বাই’ বা 'কেনার' বোতামে ক্লিক করার মানে হলো তারা একটি স্থায়ী সম্পদ কিনছেন।