কংগ্রেসে পদত্যাগের ঝড়, বাড়ছে AI আতঙ্ক
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন কংগ্রেসে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দুটি বড় ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস থেকে হাই-প্রোফাইল সদস্যরা হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI-এর দ্রুত উন্নতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রিপাবলিকান দলের টনি গঞ্জালেস এবং ডেমোক্র্যাট দলের এরিক সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে আলাদা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যেই সোমবার তাঁরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এই ঘটনায় কংগ্রেস আরও অস্থির হয়ে পড়েছে, কারণ এমনিতেই অনেক সদস্য পদত্যাগ করছেন। বলা হচ্ছে, বিগত তিন দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পদত্যাগের ঢেউ, যা প্রাতিষ্ঠানিক গভীর হতাশার ইঙ্গিত দেয়।
গঞ্জালেস ও সোয়ালওয়েলের হঠাৎ পদত্যাগের ফলে আসনগুলো খালি হয়ে গেছে। এই আসন পূরণের জন্য বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা একটি জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যেমন, ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম জেলার ভোটারদের বিশেষ নির্বাচন এবং নিয়মিত প্রাইমারি—দুটির জন্যই আগামী মাসগুলোতে একাধিকবার ভোট দিতে হতে পারে। এই নির্বাচনগুলোকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সাধারণত প্রেসিডেন্টের দল বাধার মুখে পড়ে। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম, তাই প্রতিটি আসনই গুরুত্বপূর্ণ। এই অপ্রত্যাশিত নির্বাচনগুলো এমনিতেই উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ যোগ করেছে। গঞ্জালেসের বিরুদ্ধে একজন নারী স্টাফারের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে, যিনি পরে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন।
কংগ্রেস যখন তার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত, তখন অন্যদিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্যাপিটল হিলের আইনপ্রণেতারা এই সপ্তাহে ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠক করেন। বৈঠকে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পায়। দুই দলের কংগ্রেস সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, AI-এর উন্নতির গতি এতটাই বেশি যে সরকার প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কেউ কেউ এমনও আশঙ্কা করছেন যে, আমেরিকা হয়তো ‘নিজের ধ্বংস নিজেই তৈরি করছে’। অস্তিত্বের সংকট নিয়ে এই উদ্বেগের ফলে রাজ্য পর্যায়ে নানা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব আসছে। এর মধ্যে রয়েছে AI দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় AI-এর ব্যবহার পর্যন্ত সবকিছু।
অ্যানথ্রপিক নামে একটি কোম্পানির ‘মিথোস’ নামের নতুন ও শক্তিশালী একটি AI মডেলের খবরে এই জরুরি পরিস্থিতি আরও বেড়েছে। জানা গেছে, এই মডেলটি কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এই ঘটনার পর শুক্রবার অ্যানথ্রপিকের সিইও এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য একটি विरोधाभास তৈরি করেছে। কারণ সরকার এর আগে সামরিক ক্ষেত্রে AI সুরক্ষার বিষয়ে মতবিরোধের কারণে অ্যানথ্রপিককে ব্ল্যাকলিস্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কোম্পানির শক্তিশালী নতুন মডেলের ঝুঁকি বুঝতে ও কমাতে তাদের সঙ্গেই কাজ করতে হচ্ছে।
এই সপ্তাহের ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে। হাউসে পদত্যাগের ঢেউ একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে। দলীয় কোন্দল এবং অচল কংগ্রেসের কারণে নতুন সদস্যরাও পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সাথে, AI নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ একটি বৃহত্তর সামাজিক চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে। ‘উদ্ভাবন’ বা ‘innovation’-এর দোহাই দিয়ে প্রযুক্তির বাস্তব ক্ষতিগুলোর দায়বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ আর থাকছে না। একদিকে আইনপ্রণেতারা নিজেদের সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, তাঁরা এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, যা অনেকেই পুরোপুরি বোঝেন না বলে স্বীকার করেছেন।
Source: usnews