হরমুজে মাইন সরাতে ইরানকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশনকে বলছে ‘সাধ্যের মধ্যে’

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজে মাইন সরাতে ইরানকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশনকে বলছে ‘সাধ্যের মধ্যে’

সপ্তাহব্যাপী তীব্র সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানকে সাহায্য করছে। তারা হরমুজ প্রণালী থেকে নৌ-মাইন সরানোর কাজ করছে। এই সহযোগিতার লক্ষ্য হলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক পথটি পুনরায় খুলে দেওয়া।

সপ্তাহব্যাপী তীব্র সংঘাতের পর এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে নৌ-মাইন সরাতে ইরানকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই মিশনকে ‘সাধ্যের মধ্যেই’ বলে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে এই পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করে। এই সহযোগিতামূলক কাজটি একটি ভঙ্গুর ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অধীনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে।

এই অস্বাভাবিক সহযোগিতার পেছনে রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসাথে ইরানে বিমান হামলা চালায়। খবরে বলা হয়, ওই হামলায় ইরানের ঊর্ধ্বতন নেতারা নিহত হয়েছিলেন। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এই ঘোষণা কার্যকর করতে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা চালায় এবং সমুদ্রে অসংখ্য মাইন স্থাপন করে। এর ফলে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ স্থবির হয়ে পড়ে।

২০২৬ সালের ৮ এপ্রিলের দিকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। এর মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়। যুদ্ধবিরতির পর ইরান ঘোষণা দেয় যে প্রণালীটি আবার খুলে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিজেদের পাতা মাইনগুলো সরিয়ে ফেলছে। এরপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনী মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। নিরাপদ পথ তৈরির জন্য ডেস্ট্রয়ার এবং আন্ডারওয়াটার ড্রোন ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। মাইন সরানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু কর্মকর্তারা ইরানের সক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী নন। তাদের মতে, ইরান এলোমেলোভাবে মাইনগুলো স্থাপন করেছিল, তাই সবগুলো খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখনই স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে দ্বিধা করছে। তারা প্রণালীটির নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পরিষ্কার করার পুরো প্রক্রিয়াটি ধীর এবং বিপজ্জনক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এই সূক্ষ্ম অভিযান চলাকালীন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত। বর্তমান যুদ্ধবিরতি অস্থায়ী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় বড় সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক চ্যানেল নিরাপদ করতে তারা সাহায্য করলেও ইরানের ওপর তাদের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ চলবে। যতদিন না একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হচ্ছে, ততদিন এই অবরোধ বহাল থাকবে। আপাতত, বিশ্ব হরমুজ প্রণালীর দিকে তাকিয়ে আছে। সেখানে দুই শত্রু দেশ তাদের সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষতি মেরামত করতে এক সতর্ক ও অস্থায়ী অংশীদারিত্বে কাজ করছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনী পুনরুদ্ধারের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

Source: firstpost

Publication

The World Dispatch

Source: World News API