হরমুজ প্রণালী খুলতেই তেলের দামে স্বস্তি, মুখ খুললেন ট্রাম্পও

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী খুলতেই তেলের দামে স্বস্তি, মুখ খুললেন ট্রাম্পও

আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইরানের এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথও সহজ হবে।

শুক্রবার অশোধিত তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিল বিশ্ব অর্থনীতি। সংকটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু এখন দাম অনেক কমে গেছে। ব্রেন্ট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট, দুটোই ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই পদক্ষেপ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত কমার একটি বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সংঘাতের কারণে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল এবং একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

ইরান এই কৌশলগত জলপথটি আটকে দেওয়ার পরেই সংকট শুরু হয়েছিল। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অশোধিত তেল সাধারণত এই পথেই পরিবহন করা হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর ফলে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। ট্যাংকার চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রণালী বন্ধ থাকায় কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব শিপিং ইন্স্যুরেন্স থেকে শুরু করে সারের দাম পর্যন্ত সবকিছুর উপর পড়েছিল। লেবাননে যুদ্ধবিরতির সাথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলকে যুক্ত করার পরেই এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানির দামের সাথে যুক্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিও সাথে সাথে কমে যায়।

এই ঘোষণার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এই জলপথ খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কয়েকটি পোস্টে তিনি এই পদক্ষেপের জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি এও বলেছেন যে, একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। সাবেক প্রেসিডেন্টের মন্তব্যগুলো জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছে। এখানে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়াকে একটি স্থায়ী সমাধানের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সমাধানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রণালীটি খোলা রাখা নির্ভর করছে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার ওপর। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চাপ অব্যাহত থাকলে এটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য, এই ঘটনাটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্বস্তি এনেছে। এর ফলে অর্থনীতির শ্লথ বৃদ্ধি ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেলের চড়া দাম গ্রাহক ও ব্যবসার ওপর করের মতো বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার এবং মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ভারতের মতো দেশগুলো, যারা জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত তার অশোধিত তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই সংকট আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভারতের অর্থনৈতিক ঝুঁকিকে সামনে এনেছিল। অশোধিত তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমবে। যেসব দেশ দীর্ঘ সময় ধরে চড়া দামের জ্বালানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তাদের আমদানি খরচও কমবে।

শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্কতার সাথে আশাবাদ প্রকাশ করলেও, অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। প্রণালীটি পুনরায় খোলার বিষয়টি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সঙ্গে যুক্ত। ইরান শর্ত দিয়েছে যে জাহাজগুলোকে একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে হবে। অবরোধের শুরুতে ইরানের আরোপিত টোল বা শুল্ক চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়াও, পুরোদমে বাণিজ্যিক চলাচল কত দ্রুত শুরু হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনায় বৃহত্তর সংঘাত, মার্কিন অবরোধ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা নিয়ে কথা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই স্বস্তি একটি স্থায়ী সমাধানে পরিণত হয়, নাকি এই অস্থির ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এটি শুধু একটি সাময়িক বিরতি, তা দেখার জন্য বিশ্ব অপেক্ষা করবে।

Source: india

Publication

The World Dispatch

Source: World News API