সিনেমার নতুন স্বর্গ: নির্মাতারা কেন ছুটছেন ইন্দোনেশিয়ার লুকানো জলপ্রপাতের দিকে?

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

সিনেমার নতুন স্বর্গ: নির্মাতারা কেন ছুটছেন ইন্দোনেশিয়ার লুকানো জলপ্রপাতের দিকে?

বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র নির্মাতারা ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। এখানকার লুকানো ক্যানিয়ন ও জলপ্রপাতগুলো সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে। এই অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই তাদের মূল আকর্ষণ।

ইন্দোনেশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে সিনেমার জগতে এক নতুন জোয়ার এসেছে। সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখানকার চোখধাঁধানো এবং প্রায়ই লুকানো প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এতদিন বালির ধানক্ষেত বা জাকার্তার ব্যস্ত রাস্তাঘাট সিনেমা পর্দায় দেখা গেলেও, এখন দেশের নির্জন ক্যানিয়ন এবং জলপ্রপাতগুলো আন্তর্জাতিক প্রোডাকশনের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এখানকার অকৃত্রিম সৌন্দর্য এবং অন্যান্য সুবিধা ইন্দোনেশিয়াকে নির্মাতাদের অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

এই জায়গাগুলোর মূল আকর্ষণ হলো এর বৈচিত্র্য এবং সিনেম্যাটিক গুণ। লোম্বকের জঙ্গল-ঘেরা গিরিখাত থেকে শুরু করে জাভার গোলকধাঁধার মতো নদী উপত্যকা—নির্মাতারা এমন সব ল্যান্ডস্কেপ খুঁজে পাচ্ছেন যা অন্য কোনো গ্রহ বা প্রাগৈতিহাসিক বিশ্বের দৃশ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এই স্থানগুলো শুধু দর্শকদের জন্যই নয়, প্রোডাকশন টিমের জন্যও এক নতুন আবিষ্কারের অনুভূতি নিয়ে আসে। আগ্নেয়গিরির পাথরের পাহাড়, ফিরোজা রঙের জলের পুল এবং ঘন সবুজ গাছপালা—সব মিলিয়ে এ যেন এক তৈরি প্রোডাকশন সেট। এর জন্য বাড়তি সাজসজ্জারও তেমন প্রয়োজন হয় না, ফলে সময় এবং অর্থ দুটোই বাঁচে।

কিছু বছর আগেও, লজিস্টিকগত বাধা এবং নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধার অভাবে ইন্দোনেশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুটিং করা বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। সিনেমার হাত ধরে পর্যটনের সম্ভাবনা দেখে ইন্দোনেশিয়া সরকার এই শিল্পকে সমর্থন করতে শুরু করেছে। যদিও ট্যাক্স ছাড়ের মতো বিষয়গুলো এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে, তবে স্থানীয় জিনিসপত্রের কম দাম, অনুকূল বিনিময় হার এবং দক্ষ ও ইংরেজি জানা স্থানীয় ক্রু সদস্যদের সহজলভ্যতা দেশটিকে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে। এই সুবিধাগুলো পারমিট পাওয়ার জটিলতা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোর অসুবিধাগুলো পুষিয়ে দেয়।

তবে ফিল্ম ক্রুদের এই আগমন স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য ভালো-মন্দ দুটো দিকই নিয়ে এসেছে। একদিকে যেমন গাইড, কুলি এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনই পর্যটনের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলো বিশ্বের নজরে আসছে। অন্যদিকে, পরিবেশের উপর এর প্রভাব এবং এই অসাধারণ সুন্দর জায়গাগুলোর সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তাই সরকারি সংস্থা, স্থানীয় মানুষ এবং প্রোডাকশন কোম্পানিগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, নির্মাতাদের খুঁজে পাওয়া এই 'স্বর্গ' যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুরক্ষিত থাকে।

ভবিষ্যতে পারফেক্ট শটের এই খোঁজ আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের জন্য কয়েক ডজন সম্ভাব্য শুটিং স্পটের তালিকা তৈরি করে সেগুলোর প্রচার শুরু করেছে। গ্লোবাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো যখন নতুন কনটেন্ট এবং অভিনব জায়গার নিরন্তর খোঁজ করে চলেছে, তখন আরও অনেক প্রোডাকশন টিম প্রচলিত শুটিং কেন্দ্রগুলোর বাইরে পা রাখবে। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার ১৭,০০০ দ্বীপের মধ্যে আরও অনেক লুকানো ক্যানিয়ন ও জলপ্রপাত আবিষ্কৃত হবে। আর এর মাধ্যমে দেশটি কেবল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই নয়, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্বপ্নের ঠিকানা হিসেবেও নিজের খ্যাতি আরও মজবুত করবে।

Source: yahoo

Publication

The World Dispatch

Source: World News API