টেকনোলজির বাইরেও বিশ্বজুড়ে অংশীদারিত্ব গড়তে প্রস্তুত কর্ণাটক: ডি কে শিবকুমার
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
কর্ণাটক এখন ব্যবসা ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে অংশীদার খুঁজছে। ৮০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করাই তাদের লক্ষ্য। এই উদ্যোগে বেঙ্গালুরুকে প্রতিভা এবং বিনিয়োগের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
কর্ণাটক রাজ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য নিজেদের ক্ষেত্র আরও বাড়াচ্ছে। তারা এখন শুধু টেকনোলজি হাব হিসেবে পরিচিত থাকতে চায় না। ব্যবসা ও উদ্ভাবনের মতো বিভিন্ন খাতেও তারা বিশ্বজুড়ে অংশীদারিত্ব গড়তে আগ্রহী। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এই নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বেঙ্গালুরুর টেকনোলজি খাতের সাফল্যকে কাজে লাগানো এবং রাজ্যের অর্থনীতির অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে আসা।
এই কৌশলগত উদ্যোগটি ছিল 'ব্রিজ টু বেঙ্গালুরু ২০২৬ – ডায়ালগ উইথ ডিপ্লোম্যাটস' শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অনুষ্ঠানে ৮০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা জড়ো হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নেতৃত্বে রাজ্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নেয়। আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ভিত্তি তৈরি করা। সরকার কর্ণাটককে শুধুমাত্র বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে তুলে ধরেছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলাচ্ছে। শিবকুমার বেঙ্গালুরুর বিশেষ শক্তির দিকগুলো তুলে ধরেন, যেমন এখানকার মেধাবী জনশক্তি এবং উন্নত জীবনযাত্রা। তিনি বলেন, “বেঙ্গালুরু শুধু ঘুরে যাওয়ার শহর নয়, এটি এমন একটি শহর যা 함께 গড়ে তোলা যায়।”
সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য হল ২০৩২ সালের মধ্যে কর্ণাটকের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্টার্টআপগুলো এখনো কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং, গ্রিন হাইড্রোজেন, অ্যারোস্পেস, সেমিকন্ডাক্টর এবং বায়োটেকনোলজির মতো খাত। রাজধানীর বাইরের শহরগুলোতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার তৈরির একটি কৌশলের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি 'বিয়ন্ড বেঙ্গালুরু' নামে পরিচিত। এর লক্ষ্য হল রাজ্যের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ঘটানো এবং সারা রাজ্যের প্রতিভাকে কাজে লাগানো।
এই বছরের শুরুর দিকে পাওয়া সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনাও রয়েছে। সেখানে রাজ্যের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে কর্ণাটক এখন বিশ্ব মঞ্চে প্রতিযোগিতা করছে। তারা শুধুমাত্র দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করে সেরা আন্তর্জাতিক প্রকল্প এবং প্রতিভা আকর্ষণ করতে চাইছে। এই কৌশলের প্রমাণ হিসেবে সরকার ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলোর কথা উল্লেখ করেছে। মূল বার্তাটি হলো, রাজ্যটি বড় আকারের উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। এর জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম, দক্ষ কর্মী এবং বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি রয়েছে।
ভবিষ্যতে কর্ণাটক এই ক্রমবর্ধমান সম্পর্কগুলোকে একটি নতুন কাঠামোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার নাম 'গ্লোবাল ইনোভেশন অ্যালায়েন্স ২.০'। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো সরকার, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কাঠামোবদ্ধ ও ফলভিত্তিক সহযোগিতা তৈরি করা। কূটনীতিকদের সাথে এই আলোচনাটি 'বেঙ্গালুরু টেক সামিট ২০২৬'-এর একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা পর্ব হিসেবেও কাজ করেছে। এই সামিটটি নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সামিটের থিম, 'এআই অ্যান্ড বিয়ন্ড', ইঙ্গিত দেয় যে রাজ্যটি সমস্ত খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে চায় এবং সকলের অগ্রগতির জন্য আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
Source: economictimes_indiatimes