যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, তেলের দামে ১০ শতাংশের বেশি পতন

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, তেলের দামে ১০ শতাংশের বেশি পতন

হরমুজ প্রণালী আবার খোলায় তেলের সরবরাহ নিয়ে ভয় কেটেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটাই কমে এসেছে।

শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে ১০ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। ইরানের একটি ঘোষণায় এই স্বস্তি এসেছে। দেশটি জানিয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আবার খুলে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধবিরতির সঙ্গে এই পদক্ষেপ সরাসরি যুক্ত। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে যায়। কয়েক সপ্তাহের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এই নতুন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ভয় কেটেছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এই ঘোষণাটি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি জানান, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। বৃহস্পতিবার থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। এর আগে কয়েক সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ে বহু মানুষ হতাহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সংঘাত এবং প্রণালী বন্ধের আগে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যেত। এটি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। সাময়িকভাবে এটি খুলে দেওয়ায় সংঘাত কমে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যা বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে شدید চাপের মধ্যে ফেলেছিল।

এই খবরে আর্থিক বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে সূচক বেড়েছে এবং এয়ারলাইনস ও শিপিংয়ের মতো জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলো স্বস্তি পেয়েছে। তেলের দাম কমার ফলে পেট্রোল, পরিবহন এবং উৎপাদনের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য হতে পারে। তবে, এই স্বস্তির মধ্যেও কিছুটা সতর্কতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম দ্রুত কমলেও তা এখনও সংকট-পূর্ববর্তী স্তরে ফেরেনি। এর মানে হলো, বাজারে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়ে গেছে।

এই ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং জটিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণালী খোলার ঘোষণা দিলেও, দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর কেবল শর্তসাপেক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। পরে ইরানের সংসদীয় স্পিকার হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ চলতে থাকলে প্রণালীটি খোলা থাকবে না। ইরানের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে চাওয়া শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের নেতাসহ আন্তর্জাতিক মহল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা একটি স্থায়ী এবং কার্যকর সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ এখন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সাফল্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ঘোষণার মাঝে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাস্তবে কতটা নিরাপদ হবে।

Source: firstpost

Publication

The World Dispatch

Source: World News API