খামারের শূকরকে ধর্ষণের অভিযোগ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হুডি পরা এক ব্যক্তি শূকরের খোঁয়াড়ে ঢুকছে। সেখানে মা শূকরটি তার ছানাদের পাশে ঘুমিয়ে ছিল।
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের একটি কৃষক পরিবার বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এক ব্যক্তি খামারে ঢুকে তাদের একটি খুব আদরের স্ত্রী-শূকরকে যৌন নির্যাতন করেছে। এই জঘন্য ঘটনাটি একটি সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শূকরটির মালিকরাও অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর। ঘটনাটি ঘটে গত ১১ এপ্রিল একটি ছোট গ্রামে। রাতে হুডি পরা এক ব্যক্তিকে শূকরের খোঁয়াড়ে ঢুকতে দেখা যায়।
শূকরটির মালিক, গার্সেলানো আবিন পরিবার, ঘটনার পরের দিন সকালে বুঝতে পারে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। তারা দেখে, শূকরটি খুব কষ্টে ছটফট করছে। এই শূকরটি পরিবারের কাছে খুব আদরের ছিল। কারণ এটি এর আগেও অনেক সুস্থ ছানা জন্ম দিয়েছে। ভালো করে পরীক্ষা করে মালিকরা দেখেন, প্রাণীটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তা ফুলে গেছে। তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ে যখন তারা দেখেন যে খোঁয়াড়ের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরাটি খুলে ফেলা হয়েছে। প্রমাণ নষ্ট করার জন্যই যে এটা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট।
তবে সৌভাগ্যবশত, অভিযুক্তের প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা সফল হয়নি। ক্যামেরাটি খুলে ফেলার আগেই, সিকিউরিটি সিস্টেমটি ভিডিও ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ক্লাউড সার্ভারে আপলোড করে দেয়। অভিযোগ, সেই রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, হুডি পরা লোকটি খোঁয়াড়ে ঢুকছে। সেখানে মা শূকরটি তার ছানাদের সাথে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এরপরই সে নির্যাতন চালায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এই জঘন্য কাজটি করার পর লোকটি ক্যামেরার দিকে তাকায় এবং সেটিকে অকেজো করে দেয়।
এই ঘটনার পরেই পরিবারটি স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। কৃষক জেম-জেম গার্সেলানো আবিন তার যন্ত্রণা প্রকাশ করে বলেন, "আমার নিরীহ শূকরটাকে একটা মানুষরূপী পশু নির্যাতন করেছে।" তিনি বলেন, অভিযুক্তের হুডি পরা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে সে ক্যামেরা সম্পর্কে জানত এবং পরিচয় লুকানোর জন্যই এমনটা করেছিল। পরিবারটি এখন নতুন সিকিউরিটি ক্যামেরা লাগিয়েছে। তারা অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে ও ধরতে পুলিশকে সবরকমভাবে সাহায্য করতে চায়।
জানা গেছে, পালাওয়ানের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এল নিডোতে পশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এই অঞ্চলে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ ডিসেম্বর একটি আলাদা ঘটনায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার বন্ধুর একটি ছাগলকে যৌন নির্যাতনের সময় সে পাহারা দিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে কয়েক সপ্তাহ পর একটি স্ত্রী মহিষকে নির্যাতন করার সময়ও হাতেনাতে ধরা হয়েছিল বলে জানা যায়। বারবার পশুদের ওপর এই ধরনের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
Source: dailystar