যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীলতার সুযোগ এনেছে, বললেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীলতার সুযোগ এনেছে, বললেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি একটি বড় সুযোগ। তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি হয়েছে। এটি দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারে এমন স্থায়ী চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। রাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর আগে ছয় সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহ গেরিলাদের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছিল, যা লেবাননের একটি বিশাল অংশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আউন এই মুহূর্তটিকে লেবাননের জন্য একটি "নতুন অধ্যায়" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সরকার দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং লেবানন আর "কারও যুদ্ধের ময়দান" হবে না।

লেবানন ও ইসরায়েল ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো লড়াই থামানো এবং আরও আলোচনার জন্য পথ তৈরি করা। এই সাম্প্রতিক যুদ্ধটি ২০২৬ সালের ২ মার্চ শুরু হয়েছিল, যখন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়। এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ। এই লড়াইয়ের ফলে লেবাননে মারাত্মক মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। হিজবুল্লাহর প্রাথমিক হামলার প্রতিক্রিয়ায়, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের অধীনে লেবাননের সরকার এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানায় এবং গোষ্ঠীটির সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

প্রেসিডেন্ট আউন তার ভাষণে নিজের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, লেবাননের নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে দেশের সমস্ত অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, এবং বন্দী ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও, আউন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইসরায়েলি প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ লেবাননে সরকারি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো সশস্ত্র শক্তিকে অনুমতি দেওয়া হবে না। যুদ্ধবিরতি অর্জনে ভূমিকার জন্য প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাঠের পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভঙ্গুর। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাদের বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরেই মোতায়েন থাকবে। হিজবুল্লাহ এই রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেনি। তারা বলেছে, কোনো লঙ্ঘন হলে তার জবাব দেওয়া হবে, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের দক্ষিণে তাদের বাড়িতে তাড়াহুড়ো করে ফিরে যেতে বারণ করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পুরো ইসরায়েল জুড়ে যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সামনের দিনগুলোতে আরও স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা হবে। প্রেসিডেন্ট আউন এই আলোচনাকে "স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ" বলে অভিহিত করেছেন। লেবাননের অভ্যন্তরীণ গভীর বিভাজনের কারণে এই পথটি বেশ জটিল। সেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয় এবং এটি অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যুদ্ধবিরতির সাফল্য এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সম্ভাবনা লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (UNIFIL)-এর পরিকল্পিত প্রত্যাহারের ওপরও নির্ভর করছে। এই বাহিনীর মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা, যা এই অস্থিতিশীল সীমান্ত অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করছে।

Source: yahoo

Publication

The World Dispatch

Source: World News API