হরমুজ প্রণালী আবার খোলা, জানাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী আবার খোলা, জানাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা। পারস্য উপসাগর থেকে আবার তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এটি একটি বড় ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি 'সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত'। এই ঘোষণাটি লেবাননে ১০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরুর সময়ে এসেছে। এর পরপরই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে যায়, যা গত কয়েক সপ্তাহে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরান এখন সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ করছে, যা জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করেছিল।

প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে মারাত্মক অচলাবস্থার পর প্রণালীটি আবার খুলে দেওয়া হলো। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই কৌশলগত প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাত শুরুর পর ইরান ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জাহাজগুলোকে এই পথে যাতায়াতের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। কয়েকটি জাহাজে হামলার সঙ্গেও তাদের নাম জড়ায়। এর ফলে সমুদ্রপথে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে লজিস্টিকস সংকট তৈরি হয়। শিপিং কোম্পানিগুলো যাতায়াত স্থগিত করতে বাধ্য হয়। শত শত জাহাজ আটকা পড়ে এবং সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিমা ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এটি ভালো খবর হলেও পরিস্থিতি এখনও জটিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে প্রণালীটি সাধারণ চলাচলের জন্য খোলা। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ আসা-যাওয়ার ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ 'পুরোপুরি কার্যকর' থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ১৩ এপ্রিল এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর এই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না। এর ফলে একটি জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই জলপথটি এখন একই সাথে কারও জন্য খোলা এবং কারও জন্য বন্ধ।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিধ্বংসী আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ হয়েছে। ইরান-মার্কিন উত্তেজনার সঙ্গে এই হামলাও বাড়ছিল। লেবাননের এই সংঘাতে মারাত্মক মানবিক সংকট তৈরি হয়েছিল। দশ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক হলেও, এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। এটিকে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কয়েকটি ভঙ্গুর বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। শিপিং সংস্থাগুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর আগে প্রণালীটি সত্যিই নিরাপদ এবং মাইনমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্ভর করবে লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি সফল হওয়ার ওপর। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হবে। প্রণালীটি খুলে দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর। তবে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ এবং এই অঞ্চলের গভীর উত্তেজনা প্রমাণ করে যে বর্তমান শান্ত পরিস্থিতি কতটা নাজুক।

Source: nytimes

Publication

The World Dispatch

Source: World News API