হরমুজ খুলে দিল ইরান, ট্রাম্প বললেন ‘ধন্যবাদ’

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ খুলে দিল ইরান, ট্রাম্প বললেন ‘ধন্যবাদ’

ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছে। এর ফলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে।

এক অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তেহরান হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা করার পরই তিনি এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সময়েই ইরান এই পদক্ষেপ নিল। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন করা হয়। এতদিন এখানে প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ধন্যবাদ!”। তিনি আরও বলেন, প্রণালীটি এখন “পুরোপুরি খোলা এবং যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত।”

এই প্রণালী খোলার ঘটনাটি ঘটেছে চরম উত্তেজনার এক পর্বের পর। মূলত ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান এক বৃহত্তর সংঘাতের অংশ। ইরানের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথ “সম্পূর্ণরূপে খোলা”। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট নিরাপদ রুটও চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রণালীটি পুনরায় খোলার খবর বিশ্ব বাজারে তাৎক্ষণিক এবং নাটকীয় প্রভাব ফেলে। তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৯ ডলারে নেমে আসে। সংকটের সময় এই দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা থেকে এটি একটি বড় পতন। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারগুলোতেও তেজি দেখা যায়। অর্থনৈতিক সংকটের ভয় কমে যাওয়ায় ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১,০০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এয়ারলাইনস এবং ক্রুজ লাইনের মতো জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল সংস্থাগুলির শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ইরানের এই ঘোষণায় ট্রাম্পের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কারণ তার প্রশাসন ঐতিহাসিকভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পোস্ট করার কয়েক মিনিট পরেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তেহরানের সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ “পুরোপুরি কার্যকর থাকবে”। তার এই পরবর্তী বিবৃতিটি উত্তেজনা কমানোর একটি পদক্ষেপকে স্বীকার করার পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশলকেই নির্দেশ করে। জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর মর্যাদা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনায় সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রণালীটি খুলে দেওয়াকে “সঠিক পথের দিকে একটি পদক্ষেপ” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারে। তবে, এই পদক্ষেপটি অস্থায়ী এবং লেবাননের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সঙ্গে যুক্ত। তাই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো উপসাগর দিয়ে প্রণালীর দিকে যেতে শুরু করেছে, কিছু শিপিং সংস্থা এখনও দ্বিধায় রয়েছে। তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার আগে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই উত্তেজনা হ্রাস কি একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে সত্যিকারের মোড় নেবে, নাকি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি, তা নির্ধারণে আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Source: india

Publication

The World Dispatch

Source: World News API