"আমাদের তো বউয়ের ঝামেলা নেই!" মোদীকে নিয়ে রাহুলের রসিকতায় হাসির রোল সংসদে

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

"আমাদের তো বউয়ের ঝামেলা নেই!" মোদীকে নিয়ে রাহুলের রসিকতায় হাসির রোল সংসদে

সংসদে রাহুল গান্ধীর এক রসিকতায় হাসির রোল পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও নিজেকে নিয়ে তিনি বলেন, তাদের 'বউয়ের ঝামেলা' নেই। তবে এই হালকা মেজাজের পরেই শুরু হয় সরকারের বিরুদ্ধে তার তীব্র আক্রমণ।

সংসদে এক উত্তপ্ত বিতর্কের মাঝে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী হঠাৎই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও নিজেকে নিয়ে একটি হালকা রসিকতা করেন। তার এই কথায় কিছুক্ষণের জন্য শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই হেসে ওঠে। লোকসভায় তখন মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে গুরুতর আলোচনা চলছিল। গান্ধী উপস্থিত সদস্যদের জীবনে নারীদের প্রভাব নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি মা, বোন এবং স্ত্রীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন। ঠিক তখনই তিনি থেমে যান এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার একটি মিলের কথা বলেন।

গান্ধী বলেন, "অবশ্যই, প্রধানমন্ত্রী এবং আমার 'বউয়ের ঝামেলা' নেই, তাই আমরা সেই পরামর্শটা পাই না।" তার এই কথা শোনার সাথে সাথেই গোটা সংসদ হাসিতে ফেটে পড়ে। তিনি দ্রুত যোগ করেন যে তারা দুজনেই তাদের মা এবং বোনেদের কাছ থেকে মতামত পেয়ে উপকৃত হন। এর আগে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মজার ছলে বলেছিলেন যে তিনি বাড়িতে বকা খেয়েছেন। তার সেই মন্তব্যের জবাবেই রাহুল এই ব্যক্তিগত মন্তব্যটি করেন। সংসদের উত্তপ্ত অধিবেশনের মাঝে এই রসিকতাটি কিছুক্ষণের জন্য এক মজাদার পরিবেশ তৈরি করে।

কিন্তু এই হালকা মেজাজ বেশিক্ষণ টেকেনি। গান্ধী তার বক্তব্যের মূল অংশে ফিরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। তিনি মহিলা সংরক্ষণ বিলকে নতুন ডিলিমিটেশনের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাবকে একটি "লজ্জাজনক কাজ" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "এটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলানোর একটি চেষ্টা।" তার অভিযোগ, সরকার নারী ক্ষমতায়নের আড়ালে এই কাজ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, শাসক দল এই বিলগুলিকে ব্যবহার করে জাতিগত জনগণনা (caste census) এড়াতে চাইছে। এর ফলে দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

এই বিতর্কের মূল কারণ হলো সরকারের একটি পরিকল্পনা। সরকার চাইছে নতুন করে কেন্দ্রগুলির সীমা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের পরেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে। কিন্তু বিরোধীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছে। গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা ২০২৩ সালের মূল মহিলা কোটা আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, সরকারের বর্তমান প্রস্তাব সংবিধানের উপর একটি আক্রমণ। গান্ধী সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ শাসক দলের রাজনৈতিক উদ্বেগের প্রতিফলন। তিনি এটিকে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র অন্যায়ভাবে বদলে ফেলার একটি "বিপজ্জনক" এবং "দেশবিরোধী" প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন।

বক্তৃতার সময় গান্ধী তার বোন তথা কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনৈতিক বিচক্ষণতারও প্রশংসা করেন। তিনি হেসে বলেন, প্রিয়াঙ্কা সম্প্রতি এমন কিছু করেছেন যা তিনি তার বিশ বছরের কর্মজীবনে করতে পারেননি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হাসাতে পেরেছেন। এই মন্তব্য, তার রাজনৈতিক অভিযোগ এবং ষোলো সংখ্যা নিয়ে একটি রহস্যময় ধাঁধার কারণে তার বক্তৃতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এই পুরো ঘটনাটি মহিলা সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পথ নিয়ে গভীর বিভাজনকে সামনে এনেছে। একই সাথে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপা উত্তেজনাকেও স্পষ্ট করেছে।

Source: kannada_news18

Publication

The World Dispatch

Source: World News API