জেল, নির্বাসন আর বিতর্ক: লাইভ এইডের সঞ্চালক অ্যান্ডি কারশ-র জীবনের করুণ শেষ

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

জেল, নির্বাসন আর বিতর্ক: লাইভ এইডের সঞ্চালক অ্যান্ডি কারশ-র জীবনের করুণ শেষ

ডিজে অ্যান্ডি কারশ ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মারা গেছেন। কিন্তু তার জীবনের শেষ বছরগুলো ছিল নানা সমস্যায় ভরা। এই সময়ে তিনি তিনবার জেলে গিয়েছিলেন।

একসময় ব্রিটিশ রেডিওর এক জনপ্রিয় কণ্ঠ ছিলেন অ্যান্ডি কারশ। বিশ্বজুড়ে দেখানো লাইভ এইড কনসার্টের সঞ্চালকও ছিলেন তিনি। কিন্তু তার জীবনের শেষ বছরগুলো ছিল সফল ক্যারিয়ারের একেবারে বিপরীত। এই সময়টা ব্যক্তিগত সমস্যা, জেল এবং নিজের দ্বীপের বাড়ি থেকে একরকম নির্বাসনে কেটেছে। এই ব্রডকাস্টার ৬৬ বছর বয়সে ২০২৬ সালের ১৬ই এপ্রিল মারা যান। তার কর্মজীবনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও আইনি সংকটের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়।

১৯৮০-র দশকে কারশ-র ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোতে থাকে। বিবিসির "দ্য ওল্ড গ্রে হুইসেল টেস্ট" অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। এরপর ১৯৮৫ সালে তিনি বিবিসির লাইভ এইড কভারেজের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। এই অনুষ্ঠানের পর তার খ্যাতি আরও বেড়ে যায়। একই সময়ে বিবিসির রেডিও ১-এ তার জনপ্রিয় শো শুরু হয়। ১৫ বছর ধরে তিনি ওয়ার্ল্ড মিউজিককে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তের শিল্পী ও সঙ্গীত ধারাকে ব্রিটিশ শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি বিবিসি রেডিও ৩-এ এই কাজ চালিয়ে যান। তার কাজের জন্য তিনি সমালোচকদের প্রশংসা এবং অসংখ্য ভক্ত পেয়েছিলেন। তাকে কিংবদন্তী জন পিলের উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হতো।

কারশ-র জীবনের মোড় ঘুরে যায় তার দুই সন্তানের মা জুলিয়েট ব্যানারের সঙ্গে ১৭ বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর। তারা আইল অফ ম্যানে থাকতেন। বিচ্ছেদের পর কিছু ঘটনার জেরে ব্যানার তার বিরুদ্ধে একটি রেস্ট্রেইনিং অর্ডার জারি করান। ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে কারশ বারবার সেই আদেশ লঙ্ঘন করেন। এর ফলে তাকে বেশ কয়েকবার আদালতে যেতে হয় এবং জেলে থাকতে হয়। এই ঘটনাগুলো তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলে। অথচ সেই সময়ে তিনি রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে সম্মান অর্জন করেছিলেন।

তার আইনি সমস্যা চরমে ওঠে যখন তাকে ছয় মাসের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে শর্ত ছিল, তাকে আইল অফ ম্যান ছেড়ে চলে যেতে হবে। তৎকালীন একজন বিচারক তাকে "দুঃখী ও করুণ এক চরিত্র" বলে আখ্যা দেন। তিনি জীবনকে গোছানোর জন্য কারশ-কে দ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। এই ঘটনাকে অনেকেই এক ধরনের নির্বাসন বলে মনে করেন এবং সংবাদমাধ্যমেও সেভাবেই খবর হয়। এই বছরগুলোতে তিনি মদ্যপানের সমস্যায় ভুগেছেন এবং কিছু সময়ের জন্য গৃহহীনও ছিলেন। তার জীবনের এই বিশৃঙ্খল অধ্যায়টি ছিল তার আগের সফল ক্যারিয়ারের সম্পূর্ণ বিপরীত।

পরে তিনি আবার ব্রডকাস্টিংয়ে ফিরেছিলেন। ২০১০ সালে বিবিসি রেডিও ৩-এ একটি শো এবং পরে একটি পডকাস্টও করেন। কিন্তু তার ক্যারিয়ার আর আগের মতো গতি পায়নি। ২০২৬ সালের শুরুতে জানা যায় যে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তার মৃত্যু হয়। তার জীবন ছিল বিরাট সাফল্য আর গভীর পতনের এক মিশ্রণ। তিনি একজন প্রতিভাবান ব্রডকাস্টার হিসেবে এক জটিল উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যার জীবনের শেষটা ছিল এক বেদনাদায়ক ও প্রকাশ্য পতনের সাক্ষী।

Source: dailystar

Publication

The World Dispatch

Source: World News API