যুদ্ধ থামাতে হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধ থামাতে হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম কমেছে। তবে আমেরিকার সাথে উত্তেজনা এখনও কমেনি।

তেহরান ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমেছে। তবে সামরিক উত্তেজনা এবং গভীর কূটনৈতিক অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেছেন, চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথ এখন 'সম্পূর্ণরূপে খোলা'। তবে এই সিদ্ধান্তের সাথে একটি শর্ত রয়েছে। জাহাজগুলোকে ইরানের ঠিক করে দেওয়া একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে হবে। এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে পড়েছিল। এই পদক্ষেপে প্রথমবারের মতো কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যদিও পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এরপরেই একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়। এতে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই অবরোধের কারণে তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি আটকে যায়। ফলে জ্বালানি, সার এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণায় ওয়াল স্ট্রিটে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপের জন্য ইরানকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি বলবৎ থাকবে। সংঘাত অবসানের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আমেরিকান অবরোধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালীটিও খোলা থাকবে না। এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত দেয় এবং অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই ঘোষণাটি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের একটি উত্তেজনাকর যুদ্ধবিরতির সময় এসেছে। এই যুদ্ধবিরতি ৮ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। এর আগে ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়। এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় নেতারা প্যারিসে একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। এতে প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং এই জলপথ সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক ভূমিকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো এই পদক্ষেপে সতর্কতার সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তারা বলেছে, এই বিতর্কিত পথ দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় শুরু করার আগে তাদের আরও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে শেষ হতে চলেছে। তাই একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সপ্তাহের শেষেই আরেক দফা আলোচনা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি 'খুব কাছাকাছি'। তবে ইরানের আংশিক প্রণালী খুলে দেওয়া এবং আমেরিকার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপ মুহূর্তটির ভঙ্গুরতাকে তুলে ধরে। আগামী দিনগুলোই ঠিক করে দেবে এটি উত্তেজনা কমানোর সত্যিকারের পদক্ষেপ, নাকি একটি বড় সংঘাতের মধ্যে কেবলই সাময়িক বিরতি।

Source: washingtonpost

Publication

The World Dispatch

Source: World News API