যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে আটকে যাত্রীদের কান্না
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
লন্ডনের একটি বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিরাপত্তা কর্মীর অভাবে যাত্রীদের দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই ঘটনায় পর্যটকরা আটকা পড়েন এবং যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন।
লন্ডন স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে যাত্রীরা এক বিশৃঙ্খল রাতের সম্মুখীন হন। নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য দুই ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ লাইন ছিল। এতে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ফ্লাইট মিস করার ভয় পান।
এই ভোগান্তির কারণে কিছু যাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা কর্মীর شدید অভাব ছিল। দিনটি এমনিতেও ইউরোপ জুড়ে ভ্রমণের জন্য বেশ গোলযোগপূর্ণ ছিল। জানা গেছে, ডেনমার্কে একটি বিয়েতে যোগ দিতে না পারার আশঙ্কায় এক ব্যক্তি খুবই হতাশ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কারণ বিমানবন্দরের ১১টি নিরাপত্তা স্ক্যানারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু ছিল। বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলাতে এই দুটি স্ক্যানার হিমশিম খাচ্ছিল।
এই দীর্ঘ লাইনের কারণে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। অনেকেরই ফ্লাইট ছাড়ার সময় পেরিয়ে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা আরও হতাশ হন। তাদের মধ্যে ছোট শিশুসহ অনেক পরিবারও ছিল। যাত্রীরা তাদের ফোনে ফ্লাইট ট্র্যাকিং অ্যাপ দেখে বোঝার চেষ্টা করছিলেন যে তাদের প্লেন চলে গেছে কিনা। এই বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক পর্যটকদের বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাদের শেষ মুহূর্তে থাকার জন্য নতুন জায়গা খুঁজতে হয়। স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি উচ্চ যাত্রী সংখ্যাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই অসুবিধার জন্য ক্ষমা চান।
স্ট্যানস্টেডের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন আরও বড় পরিসরে ধর্মঘট এবং ভ্রমণ সংকট চলছিল। এবিএম (ABM) কোম্পানিতে কর্মরত এবং ইউনাইট (Unite) ইউনিয়নের সদস্য, এমন ১০০ জনেরও বেশি বিশেষ সহায়তা কর্মী (special-assistance staff) ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। এই ধর্মঘট ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এর ফলে বিশেষ করে সীমিত চলাফেরার ক্ষমতাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য আরও বেশি দেরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বেতন নিয়ে মতবিরোধের কারণে এই ধর্মঘট ডাকা হয়, যার পক্ষে ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। স্ট্যানস্টেডের এই ইউনিয়ন ধর্মঘটটি ইউরোপের একটি 'ট্রিপল স্ট্রাইক কেয়াস' বা ত্রি-ধর্মঘট বিশৃঙ্খলার অংশ ছিল। একই সময়ে জার্মানিতে লুফথানসা পাইলট এবং স্পেনে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররাও ধর্মঘট করছিলেন। এর ফলে ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ সালটি ইউরোপীয় বিমান চলাচলের জন্য সবচেয়ে বিশৃঙ্খল দিনে পরিণত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভ্রমণের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এর কারণ হলো ১০ এপ্রিল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (EES) পুরোপুরি চালু হওয়া। এই নতুন সিস্টেমে পাসপোর্টে হাতে স্ট্যাম্প দেওয়ার বদলে বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপের কিছু বিমানবন্দরে যাত্রীদের তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়াকে 'চরম বিশৃঙ্খলা' বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর কারণে যুক্তরাজ্যের যাত্রীরা আটকা পড়েছেন। যদিও দীর্ঘমেয়াদে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সহজ করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তবে এর প্রাথমিক প্রয়োগ বড় ধরনের জট তৈরি করেছে।
২০২৬ সালের এই জটিল ভ্রমণ পরিস্থিতির আরেকটি কারণ হলো যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে নতুন নিরাপত্তা নিয়মের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োগ। হিথ্রো এবং বার্মিংহামের মতো কয়েকটি বড় বিমানবন্দরে হ্যান্ড লাগেজে ১০০ মিলিলিটার তরল পদার্থ রাখার পুরোনো নিয়মটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন থ্রিডি সিটি স্ক্যানার (3D CT scanners) বসানোর ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। তবে স্ট্যানস্টেড এবং গ্যাটউইকসহ অন্যান্য বিমানবন্দরগুলো এখনও একটি পরিবর্তনকালীন পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে পুরোনো এবং নতুন দুই ধরনের স্ক্যানারই ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের জন্য এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের এখন তাদের যাত্রার ও পৌঁছানোর বিমানবন্দরের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
Source: dailystar