নকল ইমেল ও SMS চিনিয়ে দেবে ChatGPT, বাঁচুন স্ক্যামের ফাঁদ থেকে
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
সাইবার অপরাধীরা স্ক্যামের জন্য AI ব্যবহার করছে। কিন্তু আপনিও AI ব্যবহার করে তাদের রুখে দিতে পারেন। জানুন কীভাবে ChatGPT আপনাকে নকল ইমেল বা SMS চিনতে সাহায্য করবে।
সাইবার অপরাধীরা এখন অত্যাধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য স্ক্যাম মেসেজ তৈরি করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI ব্যবহার করছে। তবে সাধারণ মানুষও এখন এই প্রতারণা মোকাবিলার জন্য এক নতুন শক্তিশালী হাতিয়ার খুঁজে পেয়েছে। আর সেটা হলো স্বয়ং AI। মানুষ এখন OpenAI-এর ChatGPT-র মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে ব্যক্তিগত স্ক্যাম ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে সন্দেহজনক ইমেল বা টেক্সট মেসেজ সহজেই পরীক্ষা করা যায়। এতে ফিশিং বা স্মিশিংয়ের মতো ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হওয়া থেকে বাঁচা সম্ভব, যা আজকের ডিজিটাল জগতে এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্ধতিটা খুবই সহজ এবং কার্যকর। যখনই কোনো সন্দেহজনক মেসেজ আসে, যেমন ব্যাঙ্ক বা প্যাকেজ ডেলিভারির নাম করে পাঠানো মেসেজ, সেটির টেক্সট কপি করে ChatGPT-তে পেস্ট করে দিন। তারপর একটি সহজ প্রশ্ন করে সেটিকে বিশ্লেষণ করতে বলুন।
এরপর AI মেসেজটির মধ্যে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত সাধারণ লক্ষণগুলো খুঁজে বের করে। এটি মেসেজের ভাষা বিশ্লেষণ করে দেখে সেখানে কোনো ধরনের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কৌশল আছে কি না, যেমন কৃত্রিমভাবে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া। মডেলটি মেসেজ প্রেরকের বিবরণ এবং তাতে থাকা লিঙ্কের গঠনও খুঁটিয়ে দেখে। প্রায়শই এটি ফিশিংয়ের চেষ্টার সূক্ষ্ম অসঙ্গতিগুলো ধরে ফেলে। এই প্রক্রিয়াটি সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় একটি মতামত দেয়। এর ফলে আপাতদৃষ্টিতে আসল মনে হওয়া মেসেজের পেছনের খারাপ উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে যায়। এই সক্ষমতা এখন খুব জরুরি, কারণ স্ক্যামাররাও এখন AI ব্যবহার করে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত মেসেজ তৈরি করছে, যেখানে আগেকার মতো ব্যাকরণের ভুল থাকে না।
এই ঘটনাটি সাইবারসিকিউরিটিতে AI-এর দ্বৈত ব্যবহারের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। অপরাধীরা যেমন তাদের আক্রমণের জন্য এটি ব্যবহার করছে, তেমনই প্রযুক্তি সংস্থা এবং সাইবারসিকিউরিটি ফার্মগুলোও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একই ধরনের AI ক্ষমতা যুক্ত করছে। Google-এর মতো কোম্পানিগুলো Chrome এবং Android-এর মতো প্রোডাক্টে অন-ডিভাইস AI ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে স্ক্যাম-সম্পর্কিত কার্যকলাপ শনাক্ত ও ব্লক করছে। একই সাথে, সিকিউরিটি ফার্মগুলোর বিশেষ স্ক্যাম ডিটেকশন টুলগুলোও ব্যবহারকারীদের শক্তিশালী থ্রেট অ্যানালিসিস দেওয়ার জন্য জেনারেটিভ AI ব্যবহার করছে। তবে ChatGPT তার সহজলভ্যতার জন্য অন্যদের চেয়ে আলাদা। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ বিনামূল্যে এবং সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্যবহার করতে পারে।
এটি অত্যন্ত সহায়ক হলেও, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ChatGPT-র মতো একটি সাধারণ AI-এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করাটা ঠিক নয়। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা মডেলগুলো হয়তো আরও ভালোভাবে স্ক্যাম শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু ChatGPT একটি মেসেজ কেন সন্দেহজনক, তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে খুবই পারদর্শী, যা এটিকে একটি মূল্যবান শিক্ষামূলক টুলে পরিণত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, AI দেখিয়ে দিতে পারে যে মেসেজে থাকা ফোন নম্বরটি কোম্পানির অফিসিয়াল নম্বরের সাথে মেলে না, বা URL-এর মধ্যে একটি অস্বাভাবিক সাবডোমেন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফিশিংয়ের একটি সাধারণ কৌশল। এটি কেবল ব্যবহারকারীকে একটি নির্দিষ্ট স্ক্যাম এড়াতে সাহায্য করে না, বরং ভবিষ্যতে একই ধরনের হুমকি চেনার জন্য তাকে প্রশিক্ষিতও করে তোলে।
পরিশেষে, অনলাইন স্ক্যামের বিরুদ্ধে লড়াইটি এখন ভালো এবং খারাপ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে একটি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। এর থেকে বাঁচার সেরা উপায় হলো প্রযুক্তিগত টুল এবং মানুষের নিজস্ব সতর্কতা—দুটির মেলবন্ধন। প্রত্যেকের উচিত সতর্ক থাকা, অচেনা জায়গা থেকে আসা তথ্যের অনুরোধের বিষয়ে সাবধান হওয়া এবং অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ যাচাই করা। ChatGPT-র মতো AI অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছে দ্রুত পরামর্শ নেওয়ার ক্ষমতা সুরক্ষার একটি নতুন শক্তিশালী স্তর যোগ করেছে। এটি মানুষকে অনলাইন জালিয়াতির বিপদ থেকে নিজেদের ডিজিটাল জীবনকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করার ক্ষমতা দিচ্ছে।
Source: moneycontrol