ব্যাগেজের টাকা নিয়ে ঝামেলা, এয়ারপোর্ট গেটে মরে যাওয়ার ভান করলেন যাত্রী
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
ব্যাগেজের বাড়তি টাকা দিতে না চেয়ে এক যাত্রী এয়ারপোর্টে মরে যাওয়ার ভান করেন। তার পরিবার লাগেজের চার্জ নিয়ে এই নাটকীয় প্রতিবাদ শুরু করেছিল।
চীনের কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ব্যাগেজের ফি নিয়ে একটি ঝামেলা চরম আকার ধারণ করে। এক নারী যাত্রী বোর্ডিং গেটে মরে যাওয়ার ভান করলে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি শনিবারের। এতে পাঁচজনের একটি পরিবার জড়িত ছিল। স্প্রিং এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠার আগে তাদের বলা হয় যে লাগেজের জন্য অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। এই বাজেট এয়ারলাইনটি ব্যাগের ওজনের ওপর কড়া নিয়মের জন্য পরিচিত। এয়ারলাইন কর্মীদের সাথে যা শুধু কথা কাটাকাটি দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত হাতাহাতি এবং এক অদ্ভুত প্রতিবাদে রূপ নেয়। এই ঘটনার ভিডিও করা হয় এবং পরে তা অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এয়ারলাইন কর্মীদের সাথে ঝগড়া বাড়তে থাকলে দেখা যায়, পরিবারের একজন সদস্য একজন কর্মীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই, দলটির এক মাঝবয়সী নারী মেঝেতে শুয়ে পড়েন এবং নিথর হয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরের রিপোর্টগুলোতে এই কাজটিকে অসুস্থতার ভান বা 'মরে যাওয়ার নাটক' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই নাটকীয় প্রতিবাদটি ভিড়ে ঠাসা বোর্ডিং এলাকার মাঝখানে ঘটছিল। ফলে অন্য যাত্রীদের তাকে পাশ কাটিয়ে যেতে হচ্ছিল। পরে ওই নারীকে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে এবং কর্মীদের লাথি মারতে দেখা যায়। এই ঘটনার কারণে ফ্লাইট ছাড়তে বেশ দেরি হয় এবং তাদের সাথে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
পরিবারটির এই আচরণের জন্য চীনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক নিন্দা শুরু হয়েছে। তাদের এই ঝামেলার আচরণের জন্য অনেকেই পরিবারটিকে জাতীয় 'নো-ফ্লাই লিস্ট'-এ যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। কুনমিং-এর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। তবে, এই ঝগড়া ও প্রতিবাদের সাথে জড়িত পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে কিনা, তা এখনো जाहीर করা হয়নি।
এই ঘটনা যাত্রী এবং এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে কম খরচের এয়ারলাইনগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি চার্জ নিয়ে এই সমস্যা বেশি হয়। এই চার্জগুলোর মধ্যে রয়েছে চেক করা ব্যাগেজ, সাথে রাখার জিনিস এবং সিট বেছে নেওয়ার ফি। এগুলো এখন এয়ারলাইন শিল্পের জন্য আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে, শুধু মার্কিন এয়ারলাইনগুলোই ব্যাগেজের চার্জ থেকে ৭.২৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সমালোচক এবং ক্রেতা অধিকার কর্মীরা এগুলোকে 'জাঙ্ক ফি' বলে অভিহিত করেছেন। তারা মূল্যের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানান। এয়ারপোর্টের উচ্চ চাপের পরিবেশে এই ধরনের ফি নিয়ে ঝগড়া দ্রুতই বড় আকার নিতে পারে।
যদিও 'মরে যাওয়ার ভান' করার এই প্রতিবাদটি একটি চরম উদাহরণ, তবে ব্যাগেজের ফি নিয়ে ঝামেলা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে এই ধরনের অন্যান্য ঘটনার কারণে গ্রেফতার এবং ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত চার্জের মুখোমুখি হলে কিছু যাত্রীর হতাশাকেই তুলে ধরে। এয়ারলাইনগুলো একটি ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে, যেখানে টিকিটের দামের সাথে ভ্রমণের অন্যান্য খরচ আলাদা রাখা হয়। যতদিন এই মডেল চলবে, ততদিন বোর্ডিং গেটে এমন ঝামেলার আশঙ্কা থেকে যাবে। এটি এয়ারলাইন শিল্প এবং সাধারণ যাত্রী—উভয়ের জন্যই চিন্তার কারণ।
Source: dailystar