‘চমৎকার আলোচনার’ পর লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

‘চমৎকার আলোচনার’ পর লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের

লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক দশক পর ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আলোচনায় বসবেন। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির পথও প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় লেবাননে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এটি শুরু হয়। এর ফলে ইসরায়েল এবং হেজবোল্লাহ জঙ্গিদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘাত আপাতত থেমেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘চমৎকার আলোচনার’ পর ট্রাম্প এই চুক্তির কথা জানান। এই যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য হলো, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি ও লেবানিজ নেতাদের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের পথ তৈরি করা। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হবে এই ধরনের প্রথম বৈঠক। এই পদক্ষেপটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানও জড়িত।

এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন তীব্র লড়াইয়ে বহু মানুষ হতাহত এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির আগে, দক্ষিণ লেবাননে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হেজবোল্লাহ মিলিশিয়াদের নির্মূল করতে ইসরায়েল বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালাচ্ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করে সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। জানা গেছে, এতে লিতানি নদীর ওপর শেষ সেতুটিও ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সংঘাতে মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মধ্য-এপ্রিলের মধ্যে লেবাননে ২,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। তবে আসন্ন হুমকির মুখে আত্মরক্ষার অধিকার তাদের থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে এই বিরতিতে ইসরায়েলের সম্মতির কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, দক্ষিণ লেবাননের ভেতর থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে আসবে না। অন্যদিকে, লেবানন সরকার তাদের ভূখণ্ড থেকে হামলা প্রতিরোধে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সরকারি সতর্কতা সত্ত্বেও, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো সতর্কভাবে তাদের বাড়ির দিকে ফিরতে শুরু করেছে।

যদিও লেবানন ও ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির অংশ, হেজবোল্লাহর প্রতিক্রিয়ার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির অংশ ছিল না। লেবাননের পার্লামেন্টে হেজবোল্লাহ-পন্থী সদস্যরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অন্য পক্ষ মেনে চললে তারাও যুদ্ধবিরতি সমর্থন করবেন। তবে গোষ্ঠীটি এটাও বলেছে যে, "আমাদের ভূমিতে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব লেবানন এবং এর জনগণকে প্রতিরোধের অধিকার দেয়।" এর থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তার ওপর তাদের পদক্ষেপ নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক মহল এই চুক্তিতে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

লেবাননের এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির জন্য চলমান আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইরান আগে থেকেই জোর দিয়ে আসছিল যে, কোনো বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি হতে হলে লেবাননের লড়াইও থামাতে হবে। আশা করা হচ্ছে, এই ১০ দিনের বিরতি শুধু तात्ক্ষণিক স্বস্তিই দেবে না, বরং ওয়াশিংটনে পরিকল্পিত আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সুযোগও তৈরি করবে। এই আলোচনায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান খোঁজা হবে। এই যুদ্ধবিরতির সাফল্য একটি বড় পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে হয় একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথ খুলতে পারে, অথবা এটি ব্যর্থ হয়ে আবারও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Source: theguardian

Publication

The World Dispatch

Source: World News API