পিটার ম্যান্ডেলসনের ভেটিং প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবেন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারক

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

পিটার ম্যান্ডেলসনের ভেটিং প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবেন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারক

পিটার ম্যান্ডেলসনের ভেটিং প্রক্রিয়া পর্যালোচনার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও ফরেন অফিস তাকে ছাড়পত্র দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পর্যালোচনায় বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা ভেটিং ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার নেতৃত্ব দেবেন হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকার করলেও ফরেন অফিস সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে। এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশের পরই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়। ডাউনিং স্ট্রিটের নির্দেশে এই পর্যালোচনার প্রধান হবেন স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড এবং তিনি দেশের বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা ভেটিং ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখবেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। এর ফলে ইতিমধ্যে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যান্ডেলসন তার ‘ডেভলপড ভেটিং’ পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। সরকারি সংবেদনশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি কঠোর প্রক্রিয়া। এই তথ্য প্রকাশের পরই বিতর্ক শুরু হয়। ইউকে সিকিউরিটি ভেটিং (ইউকেএসভি) তাকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তা সত্ত্বেও, ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) কর্মকর্তারা একটি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। এর ফলেই রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নিয়োগের পথ খুলে যায়। এই তথ্য প্রকাশের পর ফরেন অফিসের সবচেয়ে সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা স্যার অলি রবিন্স তার পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশ উপেক্ষা করার বিষয়টি তাকে এবং অন্য মন্ত্রীদের না জানানো "বিস্ময়কর" এবং "অমার্জনীয়"। তিনি বারবার সংসদে বলেছেন যে নিয়োগের ক্ষেত্রে "যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে"। সরকার এখন জনগণ ও সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বিরোধী নেতারা স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য জানাচ্ছে যে কোনো মন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ে জানতেন না এবং এই সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র এফসিডিও কর্মকর্তারা নিয়েছিলেন।

এই কেলেঙ্কারির শুরু হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের সময়। সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার পরিচিতির কারণে এই নিয়োগ শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসার পর, স্টারমার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করেন। ২০২৬ সালের শুরুতে আরও কিছু অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর ফলে ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি এবং হাউস অফ লর্ডস থেকে পদত্যাগ করেন। পরে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ডের আসন্ন পর্যালোচনায় খতিয়ে দেখা হবে, কীভাবে প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছিল। ফুলফোর্ড সম্প্রতি অন্য একটি বিষয়ে তদন্তের সভাপতিত্ব করেছেন এবং তিনি নিরাপত্তা ভেটিং আপিল প্যানেলেরও প্রধান। সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের ভেটিং সংস্থার সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা স্থগিত করেছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে, কোনো ঘোষণা দেওয়ার আগেই যাতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে ভেটিং প্রক্রিয়া পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। এই পর্যালোচনার ফলাফল সরকারি কার্যপদ্ধতি এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে স্টারমার প্রশাসন এই ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য লড়াই করছে।

Source: theguardian

Publication

The World Dispatch

Source: World News API