যৌথ বিনিয়োগ তহবিল মার্কিন-ইউক্রেন সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে: প্রধানমন্ত্রী সভিরিদেঙ্কো
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন-ইউক্রেন পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো। তিনি বলেন, তার মার্কিন সহযোগীরা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছেন।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এর জন্য তিনি মূলত মার্কিন-ইউক্রেন পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের যৌথ কাজকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর, প্রধানমন্ত্রী তার দেশের জন্য আমেরিকান সমর্থনের বিষয়ে নতুন করে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তার এই সফরটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের সাথে মিলে যায়। রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ চলার মধ্যে এই সফর দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় এই বিনিয়োগ তহবিলটি। এটি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সভিরিদেঙ্কো এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে এই তহবিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করা। উভয় দেশ সমানভাবে এটি পরিচালনা করে। তহবিলটি জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোর মতো কৌশলগত খাতগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করবে। মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC) এই তহবিলকে সমর্থন এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই যৌথ উদ্যোগের গতি বাড়ছে। তহবিলটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তি কোম্পানিতে তার প্রথম প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। দ্বিতীয় একটি বিনিয়োগ এই গ্রীষ্মে অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিপর্যস্ত জ্বালানি খাতের ওপর মনোযোগ দেবে। প্রধানমন্ত্রী সভিরিদেঙ্কো উল্লেখ করেছেন যে ২০২৬ সালের জন্য প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল তিনটি প্রকল্প। কিন্তু তিনি আশা করছেন এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি জানান, পর্যালোচনার অধীনে থাকা ২০০টিরও বেশি আবেদন ব্যাপক আগ্রহের লক্ষণ। এই অগ্রগতিকে গত এক বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর হওয়ার একটি বাস্তব ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তার সফরের সময়, সভিরিদেঙ্কো ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট এবং DFC-র সিইও বেন ব্ল্যাক সহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। তারা তহবিলের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বিনিয়োগকারীদের সমর্থনের জন্য 'ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরেন্স' (war risk insurance) ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামতের জন্য ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'ন্যাফটোগ্যাজ'-এর সাথে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়েও কথা হয়েছে। তহবিলের বাইরেও, প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকগুলোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যাতে দুর্বল না করা হয়, সেই বিষয়ে ইউক্রেনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে ব্যবহার করেন।
এই অর্থনৈতিক সহযোগিতা এমন সময়ে হচ্ছে যখন সামরিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে, যদিও তাতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। যদিও সরাসরি সহায়তা কমেছে, মার্কিন কংগ্রেস ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেন সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ইনিশিয়েটিভ (USAI)-এর মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। কিয়েভের জন্য, এই বিনিয়োগ তহবিলটি ওয়াশিংটনের সাথে অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভবিষ্যৎ-মুখী অংশ। এর লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করা। সভিরিদেঙ্কো তার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। তিনি চান, সঠিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং পুনর্গঠনের একটি শক্তিশালী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান হোক। এটি ইউক্রেনীয়দের সেই জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে, যা রক্ষা করার জন্য তারা এত কঠিন লড়াই করেছে।
Source: firstpost