অনাস্থা ভোটে জিতেও কয়লা বিতর্কে পদত্যাগ শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রীর

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

অনাস্থা ভোটে জিতেও কয়লা বিতর্কে পদত্যাগ শ্রীলঙ্কার জ্বালানিমন্ত্রীর

শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কয়লা আমদানি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে আনা অনাস্থা ভোটে জেতার মাত্র কয়েকদিন পরই তিনি পদ ছাড়লেন। একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন এখন এই অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে।

শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কুমারা জয়কোডি শুক্রবার তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দেশে কয়লা আমদানি প্রক্রিয়া তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠনের ঘোষণার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এই পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। কারণ, ২০২৪ সালের শেষের দিকে দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় আসা ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (NPP) সরকারের প্রথম কোনো মন্ত্রী হিসেবে জয়কোডি পদত্যাগ করলেন। মন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়ঙ্গ হেমপালাও তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ডিভিশন জানিয়েছে, নতুন কমিশনকে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করতে সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এই পদত্যাগ।

জয়কোডি সংসদে একটি অনাস্থা ভোটে জেতার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই পদত্যাগ এবং প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত আসে। গত ১০ এপ্রিল বিরোধী দলের আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব ১৫৩-৪৯ ভোটে হেরে যায়। এটি সংসদে NPP-এর শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতারই প্রতিফলন। প্রস্তাবে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তিনি নিম্নমানের কয়লা কিনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এছাড়াও, রাষ্ট্রীয় ক্রয় প্রক্রিয়া ঠিকভাবে পরিচালনা না করে তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। এসব অভিযোগকে মন্ত্রীর মারাত্মক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী দল তার পদত্যাগ দাবি করেছিল।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লঙ্কা কোল লিমিটেডের জন্য কয়লা ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ। বিরোধী দল এবং সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিম্নমানের কয়লা আমদানি করায় দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরকার কিছু আমদানি করা কয়লার মান খারাপ থাকার কথা স্বীকার করলেও, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কোনো দুর্নীতি বা আর্থিক ক্ষতির কথা অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, সমস্ত ক্রয় প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল তদন্তে কয়েক দশক ধরে ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত হওয়া কয়লা আমদানির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে এখনও বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। শ্রীলঙ্কা এখনও আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর দেশটিকে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করতে হয়। জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতার অভাব এবং অব্যবস্থাপনার মতো অভিযোগগুলো দীর্ঘদিনের। এগুলো দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা আরও বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপকে তাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতির একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পদত্যাগ এবং আসন্ন তদন্ত শ্রীলঙ্কার জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। তাই এই তদন্তের স্বচ্ছতা এবং ফলাফলের দিকেই সবার নজর থাকবে। সরকারকে এখন এমন একজন নতুন মন্ত্রী ও সচিব নিয়োগ করতে হবে, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফেরাতে পারবেন এবং চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াও সামলাতে পারবেন। এই ঘটনাগুলো আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পর একটি দেশের জন্য সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কতটা কঠিন।

Source: hindustantimes

Publication

The World Dispatch

Source: World News API