যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার পদকজয়ী অস্ট্রেলিয়ান সেনা জামিনে মুক্ত

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার পদকজয়ী অস্ট্রেলিয়ান সেনা জামিনে মুক্ত

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত জীবিত সেনা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সম্মানিত সেনা বেন রবার্টস-স্মিথকে সিডনির একটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাকে ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬-এ মুক্তি দেওয়া হয়। একাধিক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের দশ দিন পর তিনি ছাড়া পেলেন। স্পেশাল এয়ার সার্ভিস রেজিমেন্টের (SASR) এই প্রাক্তন কর্পোরালের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে থাকাকালীন পাঁচটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রবার্টস-স্মিথ ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে উরুজগান প্রদেশে পাঁচজন আফগান নাগরিককে বেআইনিভাবে হত্যায় জড়িত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া খুনের অর্থ হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাউকে হত্যা করা যিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন না।

একসময় তিনি জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান ভিক্টোরিয়া ক্রসও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা অভিযোগে রবার্টস-স্মিথের সেই খ্যাতি ম্লান হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তিনি তিনটি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেছিলেন। সেই দীর্ঘ ও বহুল আলোচিত মামলার পরই এই ফৌজদারি অভিযোগগুলো সামনে এসেছে। সংবাদপত্রগুলো তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ২০২৩ সালের জুন মাসে একজন ফেডারেল কোর্টের বিচারক রবার্টস-স্মিথের মানহানির মামলাটি খারিজ করে দেন। বিচারক রায়ে বলেন, সংবাদপত্রগুলো তাদের অনেক দাবি প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মধ্যে চারটি নিরস্ত্র আফগানকে হত্যার জন্য তার দায়ী থাকার বিষয়টিও ছিল। রবার্টস-স্মিথ এই দেওয়ানি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সফল হননি।

রবার্টস-স্মিথের বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি অভিযোগগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর আচরণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চলছিল। ব্রেরেটন রিপোর্ট নামে পরিচিত ২০২০ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিবেদনে এলিট সেনাদের দ্বারা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। আফগানিস্তান অভিযানে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান সেনাদের মধ্যে রবার্টস-স্মিথ দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ফৌজদারি অভিযোগ আনা হলো। এই মামলায় আইনজীবীরা তার জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তিনি পালিয়ে যেতে পারেন বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। কিন্তু বিচারক তার মুক্তি মঞ্জুর করেন। বিচারক বলেন, বিচার শুরু হতে অনেক দেরি হতে পারে। তাই কঠোর শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তাকে কিছু কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২,৫০,০০০ ডলারের জামানত, নিয়মিত পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়া এবং ভ্রমণে বিধিনিষেধ। বিচারক মনে করেন, এই মামলার পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। রবার্টস-স্মিথকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য গোপনীয় তথ্য দেখতে হবে। এই কারণে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। এই মামলাটি জুরি ট্রায়াল পর্যন্ত গড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। সেখানে আইনজীবীদের সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে। এই প্রমাণ মানহানির মামলার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

রবার্টস-স্মিথের মামলাটি পুরো অস্ট্রেলিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সময় দেশের সবচেয়ে এলিট সেনাদের আচরণ ও তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে কঠিন প্রশ্ন উঠেছে। যদিও তিনি বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, কিন্তু একজন সম্মানিত সেনা থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামি হয়ে ওঠাটা দেশের সামরিক ইতিহাসে একটি বিষণ্ণ অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও বিচার করতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার একটি পরীক্ষা হবে এই মামলা। তাই দেশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে আসন্ন আইনি প্রক্রিয়াটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

Source: skynews

Publication

The World Dispatch

Source: World News API