অবশেষে উদ্ধার সেই নেকড়ে, যে ইন্টারনেটে তোলপাড় ফেলেছিল

১৭ এপ্রিল, ২০২৬

অবশেষে উদ্ধার সেই নেকড়ে, যে ইন্টারনেটে তোলপাড় ফেলেছিল

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে গিয়ে এক নেকড়ে ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে উঠেছিল। অবশেষে তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রাণীটি এখন নিরাপদে চিড়িয়াখানায় ফিরে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক তরুণ নেকড়ে নয় দিন ধরে সারা দেশের মানুষের মনযোগ কেড়ে নিয়েছিল। অবশেষে তাকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিউকগু নামের দুই বছর বয়সী এই পুরুষ নেকড়েটিকে শুক্রবার ভোরে দেজোন শহরের একটি হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের কাছ থেকে ধরা হয়। এর ফলে একটি বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান এবং ব্যাপক জনউদ্বেগের শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটল। ও-ওয়ার্ল্ড (O-World) চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রাণীটি ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে উঠেছিল।

নিউকগুর এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৮ই এপ্রিল। সে তার ঘেরের বেড়ার নিচ দিয়ে গর্ত খুঁড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই প্রায় ৩০০ জন কর্মী, ড্রোন এবং থার্মাল ক্যামেরা নিয়ে বড় ধরনের তল্লাশি শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে কাছাকাছি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দিন গড়ানোর সাথে সাথে নেকড়েটি দক্ষতার সাথে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। একবার তো সে কাছের একটি পাহাড়ে উদ্ধারকারীদের তৈরি করা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে পালিয়ে যায়। এই পলাতক নেকড়ের গল্প দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী একদিকে জননিরাপত্তা নিয়ে ভয় প্রকাশ করেন, অন্যদিকে প্রাণীটির সুরক্ষার জন্য তীব্র ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

নিউকগুর ভাগ্য নিয়ে দেশব্যাপী এতটাই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল যে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং পর্যন্ত জনগণকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ নেকড়েটিকে জীবিত ধরার জন্য সবরকম চেষ্টা করছে। এই উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল কারণ ২০১৮ সালে একই চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি পিউমাকে ধরার সময় মেরে ফেলা হয়েছিল। তল্লাশি চলাকালীন পশু অধিকার কর্মীরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, নেকড়েটি একা বাঁচতে পারবে কিনা এবং তাকে না মেরে ধরার পক্ষে সওয়াল করেন। জনগণের এই মুগ্ধতার কারণে কিছু ভুল তথ্যও ছড়ায়। যেমন, নেকড়েটির একটি AI-জেনারেটেড ছবি আসল ভেবে অনেকে শেয়ার করেন।

তল্লাশি শুরু হওয়ার নয় দিন পর, ১৭ই এপ্রিল মধ্যরাতের কিছু পরে এই অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। একটি খবরের ভিত্তিতে তল্লাশি দল নিউকগুকে একটি এক্সপ্রেসওয়ের কাছে খুঁজে পায়। একজন পশুচিকিৎসক ট্র্যাঙ্কুলাইজার ডার্ট দিয়ে সফলভাবে প্রাণীটিকে কাবু করেন। এরপর নেকড়েটিকে ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার পর দেখা যায় নিউকগুর অবস্থা স্থিতিশীল। তবে পশুচিকিৎসকদের তার পেট থেকে একটি মাছ ধরার বড়শি সরাতে হয়েছিল। তার নিরাপদে ফিরে আসার খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

নেকড়েটি ধরা পড়ার পর, দেজোনের মেয়র লি জাং-উ এই ঘটনার কারণে সৃষ্ট জনউদ্বেগের জন্য ক্ষমা চান। তিনি পশুদের কল্যাণ ও নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আরও ভালো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার পর ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানা জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য এটি এখনও বন্ধ রয়েছে। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউকগুর সুস্থতা এবং যত্নই এখন তাদের প্রধান কাজ। অনেকের কাছে এই পলাতক নেকড়েটি একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে। চিড়িয়াখানা আবার খুললে কিছু মানুষ তাকে দেখতে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তার এই পালিয়ে যাওয়ার গল্পটি চিড়িয়াখানার পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করেছে।

Source: skynews

Publication

The World Dispatch

Source: World News API