মজুত করা ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি ইরান, বড় দাবি ট্রাম্পের! অবশেষে শান্তি চুক্তি?

১৬ এপ্রিল, ২০২৬

মজুত করা ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি ইরান, বড় দাবি ট্রাম্পের! অবশেষে শান্তি চুক্তি?

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শুরু হওয়া প্রথম দফার শান্তি বৈঠক মাঝপথেই ভেস্তে গিয়েছিল৷

### প্রথম অংশ

আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন যে, ইরান তার মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৈরি করা উপাদান, যাকে তিনি 'পারমাণবিক ধুলো' বলে অভিহিত করেছেন, তা হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে এটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাস করা দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই খবরের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

### দ্বিতীয় অংশ

এই নাটকীয় ঘোষণার প্রেক্ষাপট বেশ কয়েক বছরের উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৫ সালে, বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন, ইরান বিশ্বের ছয়টি ক্ষমতাধর দেশের (আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন) সঙ্গে 'জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন' (জেসিপিওএ) নামে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অধীনে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে 'ত্রুটিপূর্ণ' আখ্যা দিয়ে একতরফাভাবে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়াতে শুরু করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে।

### তৃতীয় অংশ

ট্রাম্পের চুক্তি থেকে সরে আসার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপের দিকে যায়। আমেরিকা 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে, যার ফলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রমের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং ইউরেনিয়ামের মজুত বৃদ্ধি করে, যা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও, বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়, তা বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। জানা যায়, আমেরিকা চেয়েছিল ইরান অন্তত ২০ বছরের জন্য তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখুক, কিন্তু তেহরান পাঁচ বছরের বেশি সময়ের জন্য রাজি ছিল না, যা আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি করে। এই আবহে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় হিসেবে উঠে এসেছে।

### চতুর্থ অংশ

এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ইজরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্ররা, যারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বরাবরই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে, তারা এই খবরকে স্বাগত জানাতে পারে। তবে, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যারা জেসিপিওএ চুক্তি টিকিয়ে রাখার পক্ষে ছিল, তারা ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় অংশীদার হলো ইরান এবং আমেরিকা। ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী এবং নরমপন্থীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে, আমেরিকার জন্যও এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এর জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র মতো নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

### পঞ্চম অংশ

এখন সমস্ত বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। যদি ইরান সত্যিই ট্রাম্পের দাবি মেনে নেয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে অত্যন্ত জটিল। মজুত করা ইউরেনিয়াম কীভাবে, কোথায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত প্রযুক্তিগত এবং লজিস্টিক আলোচনার প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পুরো প্রক্রিয়াটির তদারকি করতে হবে, যাতে এর স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই পদক্ষেপ সফল হলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেকার কয়েক দশকের বৈরিতার অবসান ঘটাবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা করবে এবং একটি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

Source: bengali_news18

Publication

The World Dispatch

Source: World News API