হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান অবাধ সুযোগ দিতে পারে, দাবি সূত্রের
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
Strait of Hormuz:এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত ঘটেছে, কারণ ইরান প্রণালীটির মধ্য দিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে, যেটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ চলাচল করে।
কিছুদিন ধরে চলমান উত্তেজনার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান কিছুটা নমনীয় মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তেহরান এই কৌশলগত জলপথের ওমান-নিয়ন্ত্রিত অংশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের বাধা বা হামলার ঝুঁকি ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে এই সুবিধা কার্যকর করার জন্য নতুন করে সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্ত দিয়েছে ইরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিকভাবে এর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইরান এই পথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং শত শত জাহাজ ও প্রায় ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে।
এই নতুন প্রস্তাবটি ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তেহরান এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর মাশুল আদায় বা টোল আরোপের মতো পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থাসহ বিভিন্ন মহল সতর্ক করে দিয়েছিল যে, এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে। নতুন এই প্রস্তাব যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে এবং জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালীর ওমান অংশে পেতে রাখা সম্ভাব্য মাইন অপসারণ করা হবে কি না, বা ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান এই সুবিধা পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অংশ। ওমান দীর্ঘ দিন ধরেই এই অঞ্চলে, বিশেষ করে ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ইরানের এই নমনীয় মনোভাবের পেছনে ওমানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং চলমান আলোচনার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব এমন একটি সময়ে এলো, যখন দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে, তেমনই অর্থনৈতিক চাপ কমানোর একটি উপায় খুঁজছে।
এখন সব পক্ষের নজর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকে। ইরানের প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা মূলত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কিছু দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত কি না, তার ওপর। হোয়াইট হাউস বা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে, একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে ওমানের জলসীমা দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার এই পরিকল্পনাটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ চলছিল। চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সংবেদনশীল থাকবে এবং আন্তর্জাতিক মহল পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে।
Source: bengali_news18