রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনায় আর ছাড় নয়, মার্কিন সিদ্ধান্তে ধাক্কা ভারতের জ্বালানি আমদানিতে; বিশ্ববাজারে বাড়তে পারে তেলের দাম
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
US-Russia: মার্চে চালু হওয়া ৩০ দিনের এই ছাড়ের আওতায় সমুদ্রে থাকা তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বজায় থাকে।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছাড় আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ ভারতসহ বিভিন্ন দেশের জন্য জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কেনার জন্য যে বিশেষ ছাড় বা লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এই ছাড় মূলত স্বল্পমেয়াদী ছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে জাহাজে ওঠা তেলের চালানের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে, আমেরিকা গত মার্চ মাসে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে অস্থায়ীভাবে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দেয়। ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি ৩০ দিনের ছাড় ঘোষণা করে, যার ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলো সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে তেল কিনতে পারতো। একইভাবে, ইরানের তেলের ক্ষেত্রেও একটি ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল, যেখানে রাশিয়ার তেলের ছাড়ের মেয়াদ ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে ছাড়ের মূল্যে অপরিশোধিত তেল কিনছিল, যা দেশের জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়েছিল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির অর্ডার দিয়েছিল। এখন এই ছাড় তুলে নেওয়ায়, ভারতকে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে আরও ব্যয়বহুল বিকল্প খুঁজতে হবে, যা দেশের অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। রাশিয়া এবং ইরানের তেল বিশ্ব বাজার থেকে সরে গেলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ভারত এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কীভাবে তার জ্বালানি কূটনীতি পরিচালনা করে। নয়াদিল্লিকে একদিকে যেমন তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনই অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে। ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা করতে পারে, যেমন ভেনেজুয়েলা, তবে সেই তেল পরিশোধনের খরচ বেশি হতে পারে। আগামী দিনে বিশ্ব তেলের বাজার কোন দিকে মোড় নেয় এবং ভারত কীভাবে তার জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে, সেদিকেই সকলের নজর থাকবে।
Source: bengali_news18