ইরান সংঘাতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমেরিকার! যু*দ্ধবিমান নয়, ধ্বংস এই অ*স্ত্র! মুহূর্তে জলে ২৩০০ কোটি

১৬ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান সংঘাতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমেরিকার! যু*দ্ধবিমান নয়, ধ্বংস এই অ*স্ত্র! মুহূর্তে জলে ২৩০০ কোটি

US Iran Israel Conflict: ইরানের সঙ্গে লড়তে গিয়ে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল আমেরিকার। ভেঙে পড়ল একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন, যার দাম F35 যুদ্ধবিমানের দ্বিগুনের বেশি।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত উন্নত ও মূল্যবান নজরদারি ড্রোন, এমকিউ-৪সি ট্রিটন, এই অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো যুদ্ধবিমান সরাসরি ধ্বংস না হলেও, প্রায় ২৪ কোটি ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমানটির পতন পেন্টাগনের জন্য একটি বিশাল ধাক্কা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২৩০০ কোটি টাকার বেশি। মার্কিন নৌবাহিনী গত ৯ এপ্রিল ড্রোনটি হারানোর কথা স্বীকার করেছে, তবে এর কারণ হিসেবে কোনো শত্রু পক্ষের আক্রমণের কথা উল্লেখ না করে এটিকে একটি 'দুর্ঘটনা' হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যে ড্রোনটি ধ্বংস হয়েছে, সেটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যানের তৈরি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের। এটি পৃথিবীর অন্যতম সেরা উচ্চ-ক্ষমতার দূরপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোন, যা একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ৫০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। অভিযান শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথেই এটি প্রথমে জরুরি সংকেত পাঠায় এবং ৫০,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে, অবশেষে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ড্রোনে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা প্রযুক্তি, যেমন ৩৬০-ডিগ্রি রাডার এবং মাল্টি-স্পেকট্রাল ক্যামেরা, এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অপরিহার্য সামরিক সম্পদে পরিণত করেছিল।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের 'ছায়া যুদ্ধ' এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগেও ২০১৯ সালে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, যা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। যদিও এবারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে দায়ী করেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজের মতো একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় এমন একটি মূল্যবান সম্পদের পতন নিছক দুর্ঘটনা না-ও হতে পারে। তাঁদের মতে, যদি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতেই ড্রোনটি ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে এটি তাদের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। পেন্টাগন শুধুমাত্র ড্রোন হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, কিন্তু বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি। তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন গোয়েন্দা কার্যক্রমের দুর্বলতা এবং ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। একটি ট্রিটন ড্রোন হারানো কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং এটি মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি ক্ষমতার ওপর একটি বড় আঘাত, কারণ এই মডেলের খুব বেশি ড্রোন তাদের কাছে নেই। জানা যায়, এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি ট্রাইটন ড্রোন তৈরি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই মেনে নেয়, তবে হয়তো উত্তেজনা বাড়বে না। তবে যদি তদন্তে অন্য কোনো কারণ বেরিয়ে আসে, তাহলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং নজরদারি কার্যক্রম আরও সতর্ক ও সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে। এই ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াইকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Source: bengali_news18

Publication

The World Dispatch

Source: World News API