কক্ষপথে থাকা একটি চিনা উপগ্রহ কিনে তা দিয়ে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
Iran vs USA Conflict: টিইই-০১বি নামে পরিচিত স্যাটেলাইটটি চিনা সংস্থা আর্থ আই কোং দ্বারা তৈরি ও উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অ্যারোস্পেস ফোর্সের অধীনে চলে যায়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এক বিস্ফোরক খবর প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ইরান কক্ষপথে থাকা একটি চীনা উপগ্রহ কিনে নিয়ে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কাজে ব্যবহার করেছে। এই ঘটনা মহাকাশের সামরিক ব্যবহার এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন ও বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং বেইজিং-এর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যা একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অত্যন্ত গোপনে চীনের একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ ক্রয় করে। ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়, যার অর্থ হলো, উপগ্রহটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার পর এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ইরান শুধু উপগ্রহটিই পায়নি, বরং সেটিকে পরিচালনার জন্য বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও লাভ করেছে, যা তাদের নজরদারির ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপগ্রহটি সরাসরি কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা না চালালেও এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার এক বিশাল উল্লম্ফন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান এই উপগ্রহটিকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার কাজে ব্যবহার করেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অত্যন্ত স্বচ্ছ ও উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করে হামলার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিখুঁত হামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই উপগ্রহের তথ্য বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা মহাকাশকে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার দীর্ঘদিনের আশঙ্কাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও রীতিনীতিগুলো এর ফলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই ঘটনায় চীনের ভূমিকা নিয়েও गंभीर প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে, ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানকে প্রযুক্তিগত বা সামরিক সহায়তা প্রদানের প্রমাণ মিললে চীনকে তার ফল ভোগ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে চীন নিজেদের সম্পৃক্ততা গোপন রাখতে চাইলেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে।
বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো ইরানের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। এই প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক পদক্ষেপ পর্যন্ত হতে পারে। একই সাথে, এই ঘটনা মহাকাশে উপগ্রহের বিক্রয় ও নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর বিষয়ে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে মহাকাশ যেন সংঘাতের নতুন মঞ্চে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
Source: bengali_news18