পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ লস্কর-ই-তৈবার আমির হামজা, নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে ঝাঁঝরা, অবস্থা সঙ্কটজনক

১৬ এপ্রিল, ২০২৬

পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ লস্কর-ই-তৈবার আমির হামজা, নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে ঝাঁঝরা, অবস্থা সঙ্কটজনক

<p><span style="font-weight: 400;"><strong>নয়াদিল্লি:</strong> পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা। অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লাহৌরে একটি খবরের চ্যানেলের দফতরের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয় হামজা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। আততায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। লাহৌরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হামজাকে। (Amir Hamza Shot in Lahore)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠা করে হামজা। একাধিক নাশকতায় নাম জড়িয়েছে তার। ভারতে জঙ্গি হামলাতেও তার সংযোগ পাওয়া যায়। </span><span style="font-weight: 400;">হামজা 'আফগান মুজাহিদিন' নামেও পরিচিত। জ্বালাময়ী ভাষণ এবং আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখালেখির জন্য পরিচিতি তৈরি হয়। লস্করের মুখপাত্রের জন্যও লেখালেখি করেছে হামজা। একাধিক বইও লিখেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০২ সালের ‘কাফিলা দাওয়াত অউর শাহদত’। (Pakistan News)</span></p> <p><span style="font-weight: 400;">আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। হামজার উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে সাত সদস্য রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল হামজা। সংগঠনের হয়ে অর্থ সংগ্রহ থেকে জঙ্গি নিয়োগ, জেলবন্দি জঙ্গিদের মুক্তি নিয়ে দরাদরিতে যুক্ত ছিল সে। লস্করের পত্রিকা 'মাজাল্লাহ্ আল-দাওয়াতে'রও সূচনা হামজার হাত ধরেই। </span></p> <blockquote class="twitter-tweet"> <p dir="ltr" lang="en">🚨BREAKING | Pakistan-based terror group Lashkar-e-Taiba founder AMIR HAMZA shot by UNKNOWN MEN in Lahore; currently under treatment <a href="https://t.co/N95UQ61RVP">pic.twitter.com/N95UQ61RVP</a></p> — The Tatva (@thetatvaindia) <a href="https://twitter.com/thetatvaindia/status/2044678776890720641?ref_src=twsrc%5Etfw">April 16, 2026</a></blockquote> <p><span style="font-weight: 400;">২০১৮ সালে লস্করের ছত্রছায়ায় থাকা অলাভজনক সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ্-ই-ইনসানিয়তের আর্থিক লেনদেনের উপর খাঁড়া নেমে এলে, সংগঠনের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেয় হামজা। পরবর্তীতে নিজের সংস্থা জইশ-ই-মানকফার প্রতিষ্ঠা করে। ওই সংগঠন জম্মু ও কাশ্মীরে নাশকতামূলক কাজকর্মে মদত জোগায়। জম্মু ও কাশ্মীর একদিন না একদিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে বলে একাধিক জ্বালাময়ী ভাষণও দিতে শোনা যায় হামজাকে। পাকিস্তানে ওই সংগঠন দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অবাধ বিচরণ ছিল হামজারও। এমনকি লস্কর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে সে। হা</span><span style="font-weight: 400;">মজা হাফিজ সইদ এবং আব্দুল রহমান মাক্কি, দু'জনেরই ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যায়। </span></p> <p>আদতে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। <span style="font-weight: 400;">এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা।</span></p>

পাকিস্তানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেল অফিসের বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়েছে এবং ওই এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই নিয়ে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার হামজার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হলো।

আমির হামজা, হাফিজ সইদের সঙ্গে ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই জঙ্গি সংগঠনের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং মতাদর্শী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স-এ হামলার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। আফগান মুজাহিদিনদের একজন অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবে হামজা তার উগ্রপন্থী বক্তৃতা ও লেখার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি একসময় লস্করের প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনার সম্পাদকও ছিলেন এবং সংগঠনের বার্তা প্রচারের কৌশল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং অন্তর্দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে যে, লস্কর-ই-তৈবার বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যেকার বিভেদ এই হামলার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। ২০১৮ সালে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো লস্কর-সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থাগুলোর আর্থিক কার্যকলাপের ওপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, হামজা কৌশলগতভাবে নিজেকে লস্কর থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেন।

প্রাথমিকভাবে লস্কর থেকে দূরত্ব তৈরি করলেও, হামজা পরে ‘জইশ-ই-মানকাফা’ নামে একটি নতুন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই নতুন সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীরসহ অন্যান্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠন করেছিলেন, বিভিন্ন সূত্রমতে, হামজা লস্কর-ই-তৈবার নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং হাফিজ সইদ ও আব্দুল রহমান মাক্কির মতো শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই বিবেচিত হতেন। এই হামলা লস্করের পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনাকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি, তবে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতাদের লক্ষ্য করে এমন হামলা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাটি লস্কর-ই-তৈবার ভবিষ্যৎ এবং এর নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। লাহোর পুলিশ জানিয়েছে যে, চেয়ারম্যান তেহরিক-ই-হুরমত-ই-রসুল পাকিস্তানের গাড়ির ওপর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হামলা চালায়, তবে গাড়ির আরোহীরা সুরক্ষিত ছিলেন।

Source: abplive

Publication

The World Dispatch

Source: World News API