লস্করের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ভারতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল চক্রী! আমির হামজাকে লাহোরের রাস্তায় গুলি

১৬ এপ্রিল, ২০২৬

লস্করের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ভারতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল চক্রী! আমির হামজাকে লাহোরের রাস্তায় গুলি

অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলিতে গুরুতর জখম লস্কর-ই-তইবার সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম সদস্য আমির হামজা৷ পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লাহোরে একটি সংবাদমাধ্যমের অফিসের বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানে ফের এক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী নেতার উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হল। বৃহস্পতিবার লাহোরের রাস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। এই হামলায় সে গুরুতর জখম হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

আমির হামজা শুধুমাত্র লস্কর-ই-তৈবার একজন সাধারণ সদস্য নয়, সে এই জঙ্গি সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদদের হয়ে যুদ্ধ করার মাধ্যমে তার জঙ্গি কার্যকলাপে হাতেখড়ি হয়। পাকিস্তানে ফিরে এসে সে হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবা প্রতিষ্ঠা করে এবং সংগঠনের অন্যতম প্রধান আদর্শগত প্রচারক ও তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। হামজা লস্করের প্রচারমূলক পত্রিকা 'মাজাল্লা আল-দাওয়া'-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিল এবং তার উস্কানিমূলক বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে বহু যুবককে সন্ত্রাসবাদের পথে আকৃষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভারতে সংঘটিত একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে আমির হামজার নাম জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে, ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে তাকে সন্দেহ করা হয়। জঙ্গি নিয়োগ, সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের প্রসারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার এই ভূমিকার কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও সে একজন পরিচিত নাম এবং জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালে পাকিস্তান সরকার যখন লস্কর-ই-তৈবা এবং তার শাখা সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে লোকদেখানো অভিযান শুরু করে, তখন হামজা নিজেকে কিছুটা আড়ালে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেই সময় সে 'জইশ-ই-মনকাফা' নামে একটি নতুন জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করে, যার মাধ্যমে মূলত কাশ্মীর উপত্যকায় নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। যদিও নাম পরিবর্তন করলেও, ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, লস্করের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সে পাকিস্তানে অবাধেই বিচরণ করত।值得注意的是, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি তার উপর দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। গত বছরও লাহোরে তার বাসভবনের বাইরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা।

এই হামলা পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণের সর্বশেষ নিদর্শন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক কুখ্যাত জঙ্গি নেতা, যেমন লস্করের আবু সইফুল্লা, রহস্যজনকভাবে 'অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের' হাতে নিহত হয়েছে। এই ঘটনাগুলি জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাকেও উস্কে দিয়েছে। আমির হামজার উপর এই হামলা আরও একবার প্রমাণ করল যে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারি সত্ত্বেও পাকিস্তানের মাটি সন্ত্রাসবাদীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

Source: bengali_news18

Publication

The World Dispatch

Source: World News API