বাংলাদেশে জামিন মঞ্জুর হল চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের, তবে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্রকে
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
<p><strong>ঢাকা:</strong> বাংলাদেশে একটি মামলায় জামিন পেলেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আদালতে জামিন মঞ্জুর হল তাঁর। চট্টগ্রামে হাটহাজারিতে জমিদখল, ভীতিপ্রদর্শন, মারধরের অভিযোগ ছিল চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে। সেই মামলাতেই জামিন পেলেন তিনি। চতবে জামিন পেলেও আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে চিন্ময়কৃ্ষ্ণকে। আরও মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। (Chinmoy Krishna Das)</p> <p>জমিদখল, ভীতিপ্রদর্শন, মারধর নিয়ে ২০২৩ সালে ওই মামলাটি দায়ের হয়েছিল। চিন্মকৃষ্ণ-সহ ছয়জনকে অভিযুক্ত দেখানো হয় মামলায়। গত ৭ এপ্রিল তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। আর আজ চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন চিন্ময়কৃষ্ণের জামিন মঞ্জুর করলেন। তবে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যা-সহ আরও ছয়টি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। (Bangladesh News)</p> <p>আরও একাধিক মামলা রয়েছে চিন্ময়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে, তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের হয়। এর পাশাপাশি, পুবিশের উপর হামলা, সরকারি কাজকর্মে বাধাপ্রদান, আইনজীবী এবং বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও মামলা রয়েছে। ককটের বিস্ফোরণের মামলাও হয়েছে বাংলাদেশে।</p> <p>চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষ হয়, তাতে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের অবিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামালউদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। নাম উঠে আসে চিন্ময়কৃষ্ণেরও। পুলিশ জানিয়েছিল, চিন্ময়কৃষ্ণের উস্কানিতেই সাইফুলকে হত্যা করা হয়। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর সাইফুলকে লাঠি এবং ইঁট দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।</p> <p>সাইফুল হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় চন্দন দাস, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্যকেও। পরবর্তীতে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক বয়ান দেয় বলে জানা যায়। একসময় ইসকনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ। কিন্তু বিতর্ক যত চরমে ওঠে, চিন্ময়কৃষ্ণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায় ইসকন। তাঁর কোনও মন্তব্য, কোনও কার্যকলাপের দায় ইসকনের নয় বলে জানানো হয় সেই সময়। সেই থেকে এতদিন ধরে জেলেই রয়েছেন চিন্ময়কৃষ্ণ। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে এপার বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। </p> <p>সেই সময় চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ ভারতের সাহায্য় প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। আবেদন জানান, যাতে বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে ভারত। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র নেতৃত্ব রবীন্দ্রর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় রবীন্দ্রর। চিন্ময়কৃষ্ণকে জেলবন্দি করে রাখা, তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার নিন্দা করেছিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর।</p>
চট্টগ্রামের একটি আদালতে জামিন মঞ্জুর হলেও আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জমি দখল ও মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আইনজীবী হত্যাসহ আরও অন্তত ছয়টি গুরুতর মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই তার মুক্তি মিলছে না। ফলে একটি মামলায় আইনি স্বস্তি পেলেও চিন্ময় দাসের কারামুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস, যিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত, গত কয়েক মাস ধরেই সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) একজন প্রাক্তন নেতা ছিলেন, তবে তার সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ইসকন তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। মূলত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন অভিযোগ ও মামলা যুক্ত হতে থাকে।
তার কারাবাসের সময়কালের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে। সেদিন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যার মধ্যে পড়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। পরবর্তীকালে পুলিশ এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে চিন্ময় দাসকে উসকানি ও নির্দেশের জন্য প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করে। এই হত্যা মামলাটি তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং তার মুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
বৃহস্পতিবার তিনি যে মামলাটিতে জামিন পেয়েছেন, সেটি ২০২৩ সালে দায়ের করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগে মামলাটি করেন সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রতিবেদন জমা দেয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় চিন্ময় দাসকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
চিন্ময় দাসের আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও, তাকে মুক্তি পেতে হলে আইনজীবী হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর মামলাগুলোতেও জামিন পেতে হবে। তার আইনি দলকে এখন প্রতিটি মামলায় আলাদাভাবে জামিনের জন্য আবেদন ও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষ যে গুরুতর মামলাগুলিতে তার জামিনের তীব্র বিরোধিতা করবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত। তাই এই ধর্মীয় নেতার আইনি লড়াই যে আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট এবং তার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
Source: abplive